প্রশ্ন ৮। বরিশাল বোর্ড ২০২৫
“ক” কলেজের আইসিটি ল্যাবে শিক্ষার্থীরা ফিংগার প্রিন্ট দিয়ে প্রবেশ করে। তারা ঐ ল্যাবে বিশেষ প্রোগ্রাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মানব সদৃশ যন্ত্র নিয়ে গবেষণা করছে।
ক. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কী?
খ. ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তু থেকে বৃহৎ বস্তু তৈরির প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে আইসিটি ল্যাবে প্রবেশের প্রযুক্তিটি বর্ণনা কর।
ঘ. শিক্ষার্থীদের গবেষণায় ব্যবহৃত বিশেষ প্রোগ্রামটি বিশ্বে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে- উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।
৮নং প্রশ্নের উত্তর:
ক. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন এক ধরনের কৃত্রিম পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীদের কাছে উপস্থাপন করা হলে এটিকে বাস্তব পরিবেশ বলে মনে হয়।
খ. ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তু থেকে বৃহৎ বস্তু তৈরির প্রযুক্তিটি হলো ন্যানোটেকনোলজি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১ থেকে ১০০ ন্যানোমিটার আকৃতির কোনো কিছু তৈরি করা এবং ব্যবহার করার প্রযুক্তিই হলো ন্যানোটেকনোলজি। ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ এবং বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র এ দুটি পদ্ধতিতে ন্যানো প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। এ প্রযুক্তির প্রধান সুবিধা হচ্ছে এর মাধ্যমে কোনো পদার্থের অণু-পরমাণুকে ইচ্ছামতো সাজিয়ে কাঙ্ক্ষিত রূপ দেওয়া যায়। বর্তমানে জিন প্রকৌশল, তড়িৎ প্রকৌশল, যন্ত্র প্রকৌশল ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়।
গ. উদ্দীপকে আইসিটি ল্যাবে প্রবেশের প্রযুক্তিটি হলো বায়োমেট্রিক্সের ফিঙ্গার প্রিন্ট পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে প্রথমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট অপটিক্যাল স্ক্যানারের মাধ্যমে আঙুলের ছাপের ইমেজ নেয়া হয়। ইনপুটকৃত ইমেজের অর্থাৎ আঙুলের ছাপের বিশেষ কিছু একক বৈশিষ্ট্যকে ফিল্টার করা হয় এবং এনক্রিটেড বায়োমেট্রিক কি হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের ইমেজকে সংরক্ষণ না করে সংখ্যার সিরিজ (বাইনারি কোড) কে ভেরিফিকেশনের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিস্টেমের অ্যালগরিদম এ বাইনারি কোডকে ইমেজে পুনঃরূপান্তর করতে পারে না। তাই কেউ ফিঙ্গারপ্রিন্টকে নকল (ডুপ্লিকেট) করতে পারে না। বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস, যেমন ফিঙ্গার স্ক্যানারে থাকে একটি রিডার অথবা স্ক্যানিং ডিভাইস এবং সফটওয়্যার যা স্ক্যান করা তথ্যকে ডিজিটাল ফর্মে রূপান্তর করে এবং ম্যাচিং পয়েন্টগুলো তুলনা করে। বায়োমেট্রিক ডিভাইসগুলোর মধ্যে বিশ্বজুড়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারের জনপ্রিয়তা সর্বাধিক। তুলনামূলকভাবে কম দামী, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সৃষ্টি এবং প্রচুর ডেটা রাখতে পারে বলে আজকাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ও অন্যান্যদের প্রবেশ ও বের হবার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
ঘ. উদ্দীপকের তথ্যানুসারে শিক্ষার্থীদের গবেষণায় ব্যবহৃত বিশেষ প্রোগ্রাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মানব সদৃশ যন্ত্রের প্রযুক্তি হচ্ছে রোবটিক্স। রোবটিক্স প্রযুক্তি বর্তমান বিশ্বে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শিল্প ও উৎপাদন খাতে রোবট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ভুল ও দ্রুত কাজ করতে পারে। উৎপাদনের খরচ কমায় ও গুণগত মান বৃদ্ধি করে।
২. ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যেমন- উচ্চ তাপমাত্রা বা বিষাক্ত পরিবেশে রোবট ব্যবহার করা হয়।
৩. চিকিৎসা ক্ষেত্রে সার্জারিতে রোবটিক যন্ত্র ব্যবহার করে জটিল ও সূক্ষ্ম অপারেশন করা যায়।
৪. কৃষি ক্ষেত্রে রোবট ব্যবহার করে চাষ, বপন, কীটনাশক প্রয়োগ ও ফসল সংগ্রহ করা যায়।
৫. গৃহস্থালির কাজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রান্না, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে।
৬. রোবট শিশুদের প্রোগ্রামিং ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা দিতে সাহায্য করে। গবেষণাগারে পরীক্ষা ও তথ্য বিশ্লেষণে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে।
৭. প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ড্রোন ও যুদ্ধ রোবট সীমান্ত পাহারা, উদ্ধার অভিযান ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণে ব্যবহৃত হয়। নজরদারিতে স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
৮. স্বয়ংচালিত গাড়ি ও ডেলিভারি রোবট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে। গাড়ির মধ্যে রোবোটিক সেন্সর, GPS ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্ত করা হচ্ছে।
৯. মহাকাশ গবেষণায় চন্দ্র ও মঙ্গল গ্রহে রোভার রোবট পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সুতরাং রোবোটিক্স বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিগত বিপ্লবের অন্যতম চালিকাশক্তি। এটি মানুষের কাজকে সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল করে তুলছে। ভবিষ্যতে রোবট মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
