প্রশ্ন ৫। কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
দৃশ্যকল্প-১: বিদেশ গমনে ইচ্ছুক একটি পরিবারের সদস্যদের পরিচয় নির্ণয় করতে DNA পরীক্ষা করা হয়। দৃশ্যকল্প-২: বর্তমানে সিমুলেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে উন্নততর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
ক. ই-কমার্স কী?
খ. রক্তপাতহীন অপারেশন সম্ভব- ব্যাখ্যা কর।
গ. দৃশ্যকল্প-১ এ পরিবারের সদস্যদের পরিচয় শনাক্তকরণে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত “সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত প্রযুক্তি শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হচ্ছে”- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
৫নং প্রশ্নের উত্তর:
ক. ই-কমার্স হলো আধুনিক ডেটা প্রসেসিং এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বিশেষত ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পণ্য বা সেবা বিপণন, বিক্রয়, সরবরাহ, ব্যবসা সংক্রান্ত লেনদেন ইত্যাদি কাজ সম্মিলিতভাবে সম্পাদন করা।
খ. রক্তপাতহীন অপারেশনের পদ্ধতিটি হলো ক্রায়োসার্জারি। ক্রায়োসার্জারি এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি, যা অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগের মাধ্যমে ত্বকের অস্বাভাবিক বা অপ্রত্যাশিত রোগাক্রান্ত টিস্যু/ত্বক কোষ ধ্বংস করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এ প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় আক্রান্ত টিস্যুতে ক্রায়োপ্রোব এর মাধ্যমে তরল নাইট্রোজেন প্রয়োগ করা হয়, যাতে কোষগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। এ পদ্ধতি (ক্রায়োসার্জারি), আক্রান্ত স্থানের আশপাশের টিস্যুর কোনো ধরনের ক্ষতি করে না এবং রক্তপাতও হয় না।
গ. উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ পরিবারের সদস্যদের পরিচয় শনাক্তকরণের প্রযুক্তি হচ্ছে বায়োমেট্রিক্স এর DNA টেস্ট পদ্ধতি। নিচে এ প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করা হলো: DNA টেস্ট হলো একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কোষের মধ্যে অবস্থিত DNA বিশ্লেষণ করে কোনো মানুষের প্রোফাইল বা প্রতিকৃতি তৈরি করা। যেটি উক্ত ব্যক্তিকে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারে। DNA বা ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড হলো জীবদেহের নীলনকশা বা ব্লুপ্রিন্ট। প্রত্যেক ব্যক্তির আঙুলের ছাপের ন্যায় তার কোষস্থ DNA হচ্ছে প্রতিটি জীবের জিনগত তথ্য বহনকারী উপাদান, যা প্রত্যেক মানুষের জন্য অনন্য। DNA-এর পার্থক্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করা যায়। মানুষের DNA-এর মধ্যে এমন কিছু নিউক্লিওটাইডের পুনরাবৃত্তি থাকে, যা নির্দিষ্ট মাতা ও পিতার সঙ্গে কেবল তাদের সন্তানেরাই ভাগ করে নেয়। রক্তের শ্বেত কণিকাতে বা শুক্ররসে, চুলের গোড়ায় অথবা অস্থিতে অবস্থিত কোষ থেকে DNA সংগ্রহ করে এই DNA প্রোফাইল বা DNA ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রস্তুত করা হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির পরিচয় নির্ধারণ, অপরাধ তদন্ত, পিতৃত্ব নির্ধারণ এবং রোগ শনাক্তকরণ সম্ভব হয়। সুতরাং বলা যায় যে, পরিবারের সদস্যদের পরিচয় নির্ণয়ে DNA শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
ঘ. উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হচ্ছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নিচে শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার উল্লেখ করা হলো-
শিক্ষাক্ষেত্রে: ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে শিক্ষার জটিল বিষয়গুলো সহজেই উপস্থাপন করা যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি সহজ, চিত্তাকর্ষক ও আনন্দদায়ক হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সৌরজগৎ এর গ্রহ বা গ্রহাণুপুঞ্জের অবস্থান, গঠনপ্রকৃতি, গতিবিধি, প্রাণের উপস্থিতি, নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের অভ্যন্তরীণ বিক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে।
গবেষণায়: গবেষণা ক্ষেত্রেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার দৃশ্যমান। গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন, জটিল অণুর আণবিক গঠন, ডিএনএ গঠন সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখা যায়। এছাড়া, ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কেও ধারণা লাভ করা যায়।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে: জটিল অপারেশন, কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন, ডিএনএ পর্যালোচনা ইত্যাদিসহ নবীন শল্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও রোগ নির্ণয়ে ব্যাপক হারে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়। উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, যে শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বহুল ব্যবহার বিদ্যমান।
