প্রথম অধ্যায়: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বগ্রাম ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত (সকল শিক্ষা বোর্ড ২০২৫)

প্রশ্ন-২। রাজশাহী বোর্ড- ২০২৫

আরিফ আণবিক স্কেলে পণ্য উৎপাদন নিয়ে গবেষণা করে। তাদের উৎপাদিত পণ্য সূক্ষ্ম, ছোট হলেও মজবুত ও টেকসই হয়। হাজিরার জন্য অফিসে তাকে একটি ডিভাইসে আঙুলের ছাপ দিতে হয় এবং ল্যাবে প্রবেশের সময় মনিটরের দিকে তাকাতে হয়।
ক. টেলিপ্রেজেন্স কী?
খ. প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোটর ড্রাইভিং শিখা সম্ভব- ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে পণ্য উৎপাদনের ব্যবহৃত প্রযুক্তিটির ব্যবহার ক্ষেত্রসমূহ বর্ণনা কর।
ঘ. উদ্দীপকে অফিস এবং ল্যাবে প্রবেশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তিদ্বয়ের মধ্যে উত্তম কোনটি? বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।

২নং প্রশ্নের উত্তর:
ক. টেলিপ্রেজেন্স হলো একটি উন্নত প্রযুক্তি যা ব্যবহারকারীর জন্য অন্য একটি স্থানে উপস্থিত থাকার অনুভূতি তৈরি করে, যেখানে টেলিরোবটিক্স বা উন্নত মানের ভিডিও এবং অডিওর মাধ্যমে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা লাভ করা যায়।

খ. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সম্ভব। এক্ষেত্রে কম্পিউটার সিম্যুলেশনের মাধ্যমে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের জন্য চালককে একটি নির্দিষ্ট আসনে বসতে হয়। চালকের মাথায় পরিহিত হেড মাউন্টেড ডিসপ্লের সাহায্যে কম্পিউটার দ্বারা সৃষ্ট যানবাহনের অভ্যন্তরীণ অংশ এবং আশপাশের রাস্তায় পরিবেশের একটি মডেল দেখানো হয়। প্রশিক্ষণার্থী এ পরিবেশের সাথে একাত্ম হয়ে বাস্তবের ন্যায় মোটর ড্রাইভিং কৌশল রপ্ত করতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ এর মাধ্যমে সহজেই ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সম্ভব হচ্ছে।

গ. উদ্দীপকে আণবিক স্কেলে পণ্য উৎপাদনের ব্যবহৃত প্রযুক্তি হলো ন্যানোটেকনোলজি। নিচে এর ব্যবহার ক্ষেত্রসমূহ বর্ণনা করা হলো-
১. ন্যানোটেকনোলজি প্রসেসরের উচ্চ গতি, দীর্ঘস্থায়িত্ব, কম শক্তি খরচ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যে ব্যবহার্য। সেই সাথে ডিসপ্লে ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির উন্নয়নে সহায়তা করে।
২. ন্যানো-রোবট ব্যবহার করে অপারেশন করা, যেমন- এনজিওপ্লাস্টি; সরাসরি রোগাক্রান্ত সেলে চিকিৎসা প্রদান করা, যেমন- ন্যানো ক্রায়োসার্জারি; ডায়াগনোসিস করা, যেমন- এন্ডোস্কপি, এনজিওগ্রাম, কলোনোস্কপি ইত্যাদি সম্ভব।
৩. খাদ্যজাত দ্রব্য, প্যাকেটিং, খাদ্যে স্বাদ তৈরিতে, খাদ্যের গুণাগুণ রক্ষার্থে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ম্যাটেরিয়াল তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।
৪. জ্বালানি উৎসের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ফুয়েল তৈরির কাজে ব্যবহার হয়।
৫. হালকা ওজনের ও কম জ্বালানি চাহিদা সম্পন্ন গাড়ি প্রস্তুতকরণে ব্যবহার হয়।
৬. বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সামগ্রী যেমন- ক্রিকেট, টেনিস বলের স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য, ফুটবলের বাতাসে ভারসাম্য রক্ষার্থে ব্যবহার হয়।
৭. শিল্প কারখানার ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্যকে ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহার করে অক্ষতিকর বস্তুকে রূপান্তর করে পানিতে নিষ্কাশিত করা যায়।
৮. প্রসাধনীতে জিংক অক্সাইড এর ন্যানো পার্টিকেল যুক্ত হওয়ায় ত্বকের ক্যান্সার রোধ সম্ভব হয়েছে। সেই সাথে সানস্ক্রিন ও ময়েশ্চরাইজার তৈরির কাজে ব্যবহার্য রাসায়নিক পদার্থ তৈরির ক্ষেত্রে এবং এন্টি এজিং ক্রিম তৈরিতেও ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহৃত হয়।

ঘ. উদ্দীপকে অফিসে হাজিরার জন্যে ব্যবহৃত প্রযুক্তি হলো বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তির আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গার প্রিন্ট পদ্ধতি এবং ল্যাবে প্রবেশের সময় মনিটরে যে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় তা হলো আইরিশ বা রেটিনা স্ক্যান পদ্ধতি। উক্ত প্রযুক্তিদ্বয়ের মধ্যে ফিঙ্গার প্রিন্ট অধিক উত্তম। নিচে তুলনামূলক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো-
মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট সম্পূর্ণ ইউনিক এবং সারাজীবন ধরে অপরিবর্তিত থাকে। প্রত্যেক ব্যক্তির ফিঙ্গার প্রিন্ট এতোটাই স্বতন্ত্র দুটি যমজ শিশু একই ডিএনএ প্রোফাইল নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে আলাদা করা যায়। ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহার করে অফিসে প্রবেশ নিশ্চিত করতে পূর্বেই ব্যবহারকারীর আঙুলের ছাপ ডেটাবেজে সংরক্ষণ করতে হয়। পরবর্তীতে ফিঙ্গার প্রিন্ট রিডার ঐ ব্যবহারকারীর আঙুলের নিচের অংশের ত্বককে রিড করে সংরক্ষিত ছাপের সাথে তুলনা করে এবং মিললে অ্যাকসেস প্রদান করে। এ পদ্ধতিতে সফলতার পরিমাণও বেশি। ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানারের দাম তুলনামূলকভাবে কম এবং সহজে সিস্টেম বুঝতে পারে। এ কারণে ফিঙ্গার প্রিন্ট বা হাতের স্পর্শ পদ্ধতিই বহুল ব্যবহৃত। অন্যদিকে চোখের রেটিনা পদ্ধতিতেও একইভাবে ব্যক্তি শনাক্ত করা গেলেও এর সফলতার হার তুলনামূলকভাবে কম। এক্ষেত্রে চোখের আইরিশ বা রেটিনা স্ক্যানার হিসেবে ডেটা ইনপুট করে অ্যাকসেস কন্ট্রোল কাজ করে। কিন্তু আইরিশ ও রেটিনা স্ক্যান অনেক সময় সিস্টেম সহজে বুঝতে পারে না। তাছাড়া ডিভাইসটির দামও বেশি। তাই ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রযুক্তি বেশি উত্তম।

About The Author

Check Also

এইচ এস সি চূড়ান্ত মডেল টেস্ট – ২০২৬ এর রুটিন

About The Author Admin See author's posts

Leave a Reply