প্রশ্ন ৩। যশোর বোর্ড ২০২৫
শিশির সাহেব একজন মোটর চালক প্রশিক্ষক। তিনি বাস্তবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পূর্বে বিশেষ ব্যবস্থায় একটি কক্ষে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তিনি সেই কক্ষে প্রবেশ করার জন্য মুখমন্ডল ব্যবহার করেন।
ক. বিশ্বগ্রাম কী?
খ. “তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের জীবনযাপন অত্যন্ত আরামদায়ক ও সহজসাধ্য করে দিয়েছে”- ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে শিশির সাহেবের বিশেষ ব্যবস্থায় প্রশিক্ষণ পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দুইটি বায়োমেট্রিক পদ্ধতির মধ্যে কোনটি সুবিধাজনক? ব্যাখ্যা কর।
৩নং প্রশ্নের উত্তরঃ
ক. গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম হলো এমন একটি পরিবেশ ও সমাজ যেখানে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করাসহ বিভিন্ন ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করতে পারে।
খ. তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের জীবনযাপন সহজ, দ্রুত ও অত্যন্ত আরামদায়ক করে দিয়েছে। ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে যোগাযোগ সহজ হয়েছে। অনলাইনে শিক্ষা, চিকিৎসা, কেনাকাটা ও ব্যাংকিং সেবা ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে। স্মার্ট হোম ডিভাইস, রোবটিক্স এবং AI-ভিত্তিক সরঞ্জাম মানুষের শ্রম ও সময় বাচাচ্ছে। কৃষকরাও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে উপকৃত হচ্ছেন। ফলে সময় ও খরচ কমে গিয়ে মানুষের জীবনযাত্রা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে।
গ. উদ্দীপকে শিশির সাহেবের বিশেষ ব্যবস্থায় প্রশিক্ষণ পদ্ধতিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন এক ধরনের কৃত্রিম পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীদের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে তারা এটিকে বাস্তব পরিবেশ হিসেবে মনে করে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহারকারী সম্পূর্ণরূপে একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিমজ্জিত হয়ে যায়। তথ্য আদান-প্রদানকারী বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস সংবলিত চশমা, headsets, gloves, suit ইত্যাদি পরিধান করার মাধ্যমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে বাস্তবকে উপলব্ধি করা হয়। একটি typical VR ফরম্যাটে একজন ব্যবহারকারী ত্রিমাত্রিক স্ক্রিন সংবলিত একটি হেলমেট পরে এবং তার মধ্যে দিয়ে বাস্তব থেকে অনুকরণকৃত অ্যানিমেটেড বা প্রাণবন্ত ছবি দেখে। Telepresence বা কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক জগতে উপস্থিত থাকার ভ্রমণ একটি গতি নিয়ন্ত্রণকারী সেন্সর দ্বারা প্রভাবিত করা হয়। গতি নিয়ন্ত্রণকারী সেন্সরের মাধ্যমে স্ক্রিনে প্রদর্শিত ছবির গতিকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারকারীর গতির সাথে মেলানো হয়। যখন ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারকারীর গতির পরিবর্তন হয় তখন স্ক্রিনে প্রদর্শিত দৃশ্যের গতিও পরিবর্তিত হয়। এভাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারকারী কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক জগতের সাথে মিশে যায় এবং সেই জগতের একটি অংশে পরিণত হয়।
ঘ. উদ্দীপকের তথ্যানুসারে যে দুইটি বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির কথা বলা হয়েছে সেগুলো হলো হ্যান্ড জিওমেট্রি এবং ফেস রিকগনিশন। এই দুটি পদ্ধতির মধ্যে হ্যান্ড জিওমেট্রি অধিকতর সুবিধাজনক। নিচে তা বর্ণনা করা হলো: ফেস রিকগনিশন পদ্ধতি বা মানুষের মুখ শনাক্তকরণ হচ্ছে এমন এক ধরনের প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার, যার সাহায্যে মানুষের মুখের গঠন প্রকৃতি পরীক্ষা করে শনাক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির সরাসরি মুখের ছবিকে কম্পিউটারে সংরক্ষিত ছবির সাথে তুলনা করা হয়। এ পদ্ধতিতে দুই চোখের মধ্যবর্তী দূরত্ব, নাকের দৈর্ঘ্য ও ব্যাস, চোয়ালের কৌণিক পরিমাণ ইত্যাদি পরিমাপের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। মুখের অভিব্যক্তির ভিন্নতার কারণে এ পদ্ধতিতে অনেক সময় মুখ শনাক্ত করা কষ্টকর। স্বল্প আলো, সানগ্লাস, টুপি, স্কার্ফ, দাড়ি, লম্বা চুল, মেকআপ ইত্যাদি পরিবেশে এ পদ্ধতি কম কার্যকর। অন্যদিকে হ্যান্ড জিওমেট্রি পদ্ধতিতে বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস দ্বারা মানুষের হাতের আকৃতি বা জ্যামিতিক গঠন ও সাইজ নির্ণয়ের মাধ্যমে মানুষকে শনাক্ত করা হয়। এই পদ্ধতি ব্যবহার করা খুবই সহজ। এই পদ্ধতিতে সিস্টেমে অল্প মেমোরির প্রয়োজন হয়। প্রতিটি মানুষের হাতের আকৃতি ও জ্যামিতিক গঠন পরস্পর থেকে আলাদা হওয়ায় নির্ভুলভাবে ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় বলে নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ পদ্ধতি খুবই কার্যকর। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, নিরাপত্তার মানদণ্ডে ফেইস রিকগনিশন এর তুলনায় হ্যান্ড জিওমেট্রি অধিক সুবিধাজনক।
