প্রথম অধ্যায়: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বগ্রাম ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত (সকল শিক্ষা বোর্ড ২০২৫)

প্রশ্ন ১০। ময়মনসিংহ বোর্ড-২০২৫

দৃশ্যকল্প-১: ইনপুট স্তর -> লুকায়িত স্তর -> আউটপুট স্তর (চিত্রের বর্ণনা)
দৃশ্যকল্প-২: i. মলিকুলার মেডিসিন ii. জিনথেরাপি iii. ডিএনএ ম্যাপিং ও অ্যানালাইসিস iv. জিন ফাইন্ডিং
ক. ন্যানো-পার্টিকেল কী?
খ. “সিম্যুলেশনের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের আবহ তৈরি করে সৈনিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব” ব্যাখ্যা কর।
গ. দৃশ্যকল্প-১ এর প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত প্রয়োগসমূহের সাথে সম্পর্কিত প্রযুক্তিটি জীবের জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য প্রাপ্তির প্রযুক্তিটি থেকে ভিন্নতর- বিশ্লেষণ কর।

১০নং প্রশ্নের উত্তর:

ক. 1 থেকে 100 ন্যানোমিটার আকৃতির কোনো কিছু তৈরি করা হলে তাকে সাধারণভাবে ন্যানো-পার্টিকেল বলে।

খ. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) সিমুলেশন প্রযুক্তি একটি উন্নত প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, যার মাধ্যমে সৈনিকদের বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মতো পরিবেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়। এই প্রযুক্তি কম্পিউটার-নির্ভর গ্রাফিক্স এবং সেন্সর ব্যবহারের মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক একটি কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে সৈনিকরা ভার্চুয়াল অস্ত্র, যানবাহন, বিস্ফোরণ বা শত্রুর হামলার মতো ঘটনাগুলোর অনুকরণে অংশগ্রহণ করতে পারে। যেমন- ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সিমুলেশনের মাধ্যমে সৈনিকরা বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতিতে অনুশীলন করে যুদ্ধকৌশল ও প্রতিক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে।

গ. উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এর প্রযুক্তিটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। নিচে এই প্রযুক্তির ব্যাখ্যা দেওয়া হলো- আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে বস্তুতপক্ষে যন্ত্রের বুদ্ধিমত্তাকে বোঝায়। অর্থাৎ কোনো ঘটনা বা পরিস্থিতির সাপেক্ষে কোনো যন্ত্র (যেমন- কম্পিউটার) কী ধরনের সিদ্ধান্ত নিবে তার সক্ষমতা পরিমাপন পদ্ধতি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূল উপাদানগুলো হলো-
১. মেশিন লার্নিং: যন্ত্রকে অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে সহায়তা করে।
২. ডিপ লার্নিং: মানুষের মস্তিষ্কের মতো কাজ করে এমন নিউরাল নেটওয়ার্ক।
৩. ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP): ভাষা বুঝে ও তৈরি করে।
৪. কম্পিউটার ভিশন: ছবি ও ভিডিও বুঝতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার ক্ষেত্র হলো-
১. স্বাস্থ্য, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা-পরিকল্পনা;
২. শিক্ষা বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন শিক্ষাসহায়ক সফটওয়্যার;
৩. কৃষি ফসলের রোগ শনাক্তকরণ, উৎপাদন পূর্বাভাস;
৪. ব্যবসাক্ষেত্রে গ্রাহকের আচরণ বিশ্লেষণ, অটোমেশন;
৫. প্রযুক্তি যেমন- চ্যাটবট, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট (যেমন: Siri, Alexa)।

ঘ. উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লেখিত প্রয়োগসমূহের সাথে সম্পর্কিত প্রযুক্তিটি হলো বায়োইনফরমেটিক্স। আবার জীবের জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য প্রাপ্তির প্রযুক্তিটি হচ্ছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি থেকে ভিন্নতর।
নিচে এদের তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বায়োইনফরমেটিক্স হলো এমন একটি আন্তঃশাস্ত্রীয় ক্ষেত্র যা জীব সংক্রান্ত ডেটা বিশ্লেষণ করে বুঝার জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি এবং সফটওয়্যার টুলস উন্নয়ন করে। অন্যদিকে বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে কোনো প্রাণীর জিনোমকে নিজের সুবিধানুযায়ী সাজিয়ে নেওয়াই হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
২. বায়োইনফরমেটিক্সের উদ্দেশ্য হলো জৈবিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুধাবন করা। অন্যদিকে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ (DNA) তৈরি করে বিশেষ জিনকে ক্রোমোজোমের ডিএনএ (DNA) অণু থেকে পৃথক করে কাজে লাগানো।
৩. বায়োইনফরমেটিক্সের প্রধান কাজ হচ্ছে জীববিজ্ঞান সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় তথ্য ও জ্ঞানকে বিকশিত করার জন্য সফটওয়্যার সামগ্রী তৈরি করা। অন্যদিকে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রধান কাজ হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ বা পরিবর্তিত জিনযুক্ত কোষে অন্য জীব থেকে কর্মক্ষম বা ভালো জিন সংস্থাপন করে কর্মক্ষমহীন জীবটিকে কর্মক্ষম করে তোলা।
৪. বায়োইনফরমেটিক্স প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন গবেষণা যেমন- সিকুয়েন্স, এলাইনমেন্ট, ডিএনএ ম্যাপিং, ডিএনএ এনালাইসিস, জিন ফাইন্ডিং জিনোম সমাগম, ড্রাগ নকশা, প্রোটিনের গঠন ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করছে। চিকিৎসা, গবেষণা, শিল্প এবং কৃষিসহ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যাপক প্রয়োগ রয়েছে। উপরের বর্ণনার আলোকে বলা যায় বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি থেকে ভিন্নতর।

About The Author

Check Also

এইচ এস সি চূড়ান্ত মডেল টেস্ট – ২০২৬ এর রুটিন

About The Author Admin See author's posts

Leave a Reply