প্রশ্ন ৪। যশোর বোর্ড ২০২৫
উদ্ভিদে প্রযুক্তি প্রয়োগের কারণে আজ উচ্চ ফলনশীল এবং আবহাওয়া উপযোগী ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। অপরদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যন্ত্র শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহারের ফলে মানুষের শ্রমসাধ্য কাজ খুব সহজেই করা যাচ্ছে।
ক. স্মার্ট হোম কী?
খ. “কেতা-বিক্রেতাকে তাদের উৎপাদিত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য অন্যত্র যেতে হয় না”- বুঝিয়ে লেখ।
গ. ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষেত্র ছাড়াও আর কোন কোন ক্ষেত্রে কীভাবে আমরা যন্ত্রটি ব্যবহার করতে পারি? আলোচনা কর।
৪নং প্রশ্নের উত্তর:
ক. স্মার্ট হোম হলো এক ধরনের ওয়ানস্টপ সার্ভিস পয়েন্টের মতো, যেখানে বসবাসের জন্য সকল উপযোজন পাওয়া যায় এবং গ্রাহককে ব্যবহার্য দ্রব্যাদির গুণগতমান নিশ্চিত করে এ সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা যায়।
খ. ক্রেতা বিক্রেতাকে তাদের উৎপাদিত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য অন্যত্র যেতে হয় না- এর অর্থ হলো, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এখন তারা ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। যেমন- ই-কমার্স প্লাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই ঘরে বসে পণ্য কেনাবেচা করতে পারে। এভাবে অনলাইন মার্কেটপ্লেস, মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট ইত্যাদির মাধ্যমে সহজেই ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন হয় এবং লেনদেন সম্পন্ন হয়। এতে সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হয় এবং বাজারজাতকরণ আরও সহজ হয়।
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। জীবদেহে জীনোমকে প্রয়োজন অনুযায়ী সাজিয়ে কিংবা একাধিক জীবের জীনোমকে জোড়া লাগিয়ে নতুন জীবকোষ সৃষ্টির কৌশলই হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। একটি উদ্ভিদ বা প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের গ্রাহক হচ্ছে জিন। অন্যদিকে জিনোম হলো জীবের বৈশিষ্ট্যের নকশা বা বিন্যাস। কোনো উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন করতে চাইলে উক্ত উদ্ভিদের জিনোমের কোনো একটি জিনকে পরিবর্তন করে দিতে হয়। যেহেতু জিনগুলো আসলে ডিএনএ’র একটি অংশ, তাই একটা জিনকে পরিবর্তন করতে হলে ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ’র সেই অংশটুকু কেটে আলাদা করে অন্য কোনো প্রাণী বা ব্যাকটেরিয়া থেকে আরেকটি জিন কেটে এনে সেখানে লাগিয়ে দিতে হয়। এর ফলে একটি নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কাঙ্ক্ষিত উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে কৃষি, চিকিৎসা ও ঔষধ শিল্পে, গৃহপালিত পশু ও মৎস্য উন্নয়নে, দুগ্ধজাত দ্রব্য তৈরিতে, পরিবেশ ব্যবস্থাপনায়, ফরেনসিক টেস্টের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে।
ঘ. উদ্দীপকে “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন যন্ত্র” বলতে এমন যন্ত্রকে বোঝানো হয়েছে, যেটি মানুষের মতো চিন্তা, বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা শেখার ক্ষমতা রাখে। যেমন- রোবট, চ্যাটবট, সেলফ ড্রাইভিং গাড়ি ইত্যাদি। শিল্পক্ষেত্র ছাড়া আরও যেসব ক্ষেত্রে আমরা এই যন্ত্রকে ব্যবহার করতে পারি তা নিচে আলোচনা করা হলো: ১. মানুষ্যবিহীন গাড়ি এবং বিমান চালনার ক্ষেত্রে। ২. জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধানে ও বিভিন্ন ডিভাইসের সূক্ষ্ম ত্রুটি শনাক্তকরণে। ৩. ক্ষতিকর বিস্ফোরক শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার কাজে। ৪. চিকিৎসা ক্ষেত্রে। যেমন- মাইসিন, ন্যানোরোবট। ৫. কাস্টমার সার্ভিস প্রদানে। যেমন- Automated online assistants. ৬. বিনোদন ও গেম খেলায়। যেমন- দাবা খেলায়। ৭. স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে। ৮. প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ খুঁজে বের করার কাজে। ৯. ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা ও স্টক লেনদেন এর ক্ষেত্রে। ১০. বিভিন্ন অফিসে স্টাফদের প্রতিদিনের কর্মতালিকা বন্টনে।
