প্রশ্ন-১। ঢাকা বোর্ড- ২০২৫
১। মি. রফিক একজন বিখ্যাত গবেষক। তিনি এবং তার দল পার্পল কালার (বেগুনি রং) এর উফশী ধান আবিষ্কার করেন। মি: রফিকের বন্ধু শফিক একদিন তার ল্যাবে প্রবেশের জন্য হাত দিতে গেলেই দরজাটি না খুলে এলার্ম বেজে উঠে। কিন্তু মি. রফিক এসে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সেই দরজা খুলে যায়।
ক. ই-লার্নিং কী?
খ. “প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরাসরি রোগাক্রান্ত কোষে চিকিৎসা প্রদান সম্ভব”- ব্যাখ্যা কর।
গ. মি. রফিক দরজার সামনে দাঁড়ালে দরজাটি খুলে গেলেও শফিক হাত দিলেও দরজার খুলল না কেন? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উফশী ধান আবিষ্কারের প্রযুক্তিটির কাজ করার পদ্ধতি বর্ণনা কর এবং প্রযুক্তিটি কৃষিক্ষেত্রে কী কী অবদান রাখছে তা উল্লেখ কর।
১নং প্রশ্নের উত্তর:
ক. গতানুগতিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদানের পরিবর্তে অনলাইনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইলেকট্রনিক মাধ্যম, বিশেষত কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও ওয়েব ব্যবহার করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার পদ্ধতিই হলো ই-লার্নিং।
খ. প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরাসরি রোগাক্রান্ত কোষে চিকিৎসা প্রদানের কার্যকর একটি উপায় হলো ন্যানো-ক্রায়োসার্জারি। এই প্রযুক্তির সাহায্যে প্রথমে বিশেষভাবে ডিজাইন করা ন্যানো-পার্টিকেলস রোগাক্রান্ত কোষ শনাক্ত করে এবং সেখানে জমা হয়। এরপর ঐ নির্দিষ্ট জায়গায় ক্রায়োপ্রোবের সাহায্যে ঠাণ্ডা প্রয়োগ করা হয়। এই ঠাণ্ডা ন্যানোকণিকার সাহায্যে বহুগুণ কার্যকরভাবে কোষে ঠাণ্ডা সৃষ্টি করে। দ্রুত ঠাণ্ডায় নির্বাচিত রোগাক্রান্ত কোষের ভেতরের পানি বরফে পরিণত হয়ে কোষ ফেটে যায় ও মারা যায়। এভাবে সরাসরি ও অত্যন্ত নির্ভুলভাবে রোগাক্রান্ত কোষে চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হয়।
গ. মিঃ রফিক দরজার সামনে দাঁড়ালে দরজাটি খুলে গেলেও শফিক হাত দিলেও দরজাটি খুলল না। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো:
উদ্দীপকের দরজাটিতে বায়োমেট্রিক সিকিউরিটি সিস্টেম হিসেবে ফেইস রিকগনিশন অথবা হ্যান্ড জিওমেট্রি ব্যবহার করা হয়েছে। ফেইস রিকগনিশন হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যেখানে মানুষের মুখের জ্যামিতিক আকার ও গঠনকে পরীক্ষা করে উক্ত ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করা যায়। এ পদ্ধতিতে সিস্টেমে সংরক্ষিত পূর্বের ফেইস ডেটার সাথে নতুন প্রাপ্ত ফেইস ডেটা মিলিয়ে ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। উদ্দীপকের মিঃ রফিকের ফেইস ডেটার সাথে সিস্টেমে সংরক্ষিত পূর্বের ফেইস ডেটা মিলে যাওয়ায় দরজাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায়। অন্যদিকে, মিঃ শফিক হাত দিয়ে দরজা খুলতে গেলেই দরজাটি না খুলে এলার্ম বেজে উঠল। অর্থাৎ দরজাতে লাগানো হ্যান্ড জিওমেট্রি পদ্ধতির রিডারটি মিঃ শফিককে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। এ পদ্ধতিতে হ্যান্ড জিওমেট্রি রিডারের সাহায্যে হাতের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ডেটা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে নতুন ডেটার সাথে পূর্বের ডেটা মিলিয়ে ব্যক্তিকে শনাক্তকরণ করা হয়। উদ্দীপকের তথ্যানুসারে বলা যায় যে, মি: শফিকের হাতের ডেটার সাথে পূর্বে সংরক্ষিত সিস্টেমের ডেটার মিল না হওয়াতে দরজাতে ব্যবহৃত হ্যান্ড জিওমেট্রি রিডারটি মি: শফিককে শনাক্ত করতে পারে নি। ফলে দরজাটি বন্ধই থাকে এবং অপরিচিত কেউ অ্যাক্সেস নেওয়ার চেষ্টা করায় সতর্কতামূলক সংকেত হিসাবে এলার্ম বেজে উঠে।
ঘ. উদ্দীপকে উফশী ধান আবিষ্কারে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। জীবদেহে জীনোমকে প্রয়োজন অনুযায়ী সাজিয়ে কিংবা একাধিক জীবের জীনোমকে জোড়া লাগিয়ে নতুন জীবকোষ সৃষ্টির কৌশলই হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। একটি উদ্ভিদ বা প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের বাহক হচ্ছে জিন। অন্যদিকে জিনোম হলো জীবের বৈশিষ্ট্যের নকশা বা বিন্যাস। কোনো উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন করতে চাইলে উক্ত উদ্ভিদের জিনোমের কোনো একটি জিনকে পরিবর্তন করে দিতে হয়। যেহেতু জিনগুলো আসলে ডিএনএ’র একটি অংশ, তাই একটা জিনকে পরিবর্তন করতে হলে ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ’র সেই অংশটুকু কেটে আলাদা করে অন্য কোনো উদ্ভিদ বা ব্যাকটেরিয়া থেকে আরেকটি জিন কেটে এনে সেখানে লাগিয়ে দিতে হয়। এর ফলে একটি নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কাঙ্ক্ষিত উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় মি: রফিক পার্পল কালার (বেগুনি রঙের) উফশী ধানের বীজ আবিষ্কারের জন্য উপরের বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। অর্থাৎ তিনি নির্দিষ্ট উদ্ভিদের ডিএনএ’র নির্দিষ্ট জিনকে কেটে আলাদা করে সেখানে সুনির্দিষ্ট জিনকে জোড়া লাগিয়ে নতুন প্রজাতির উফশী ধানের বীজ আবিষ্কার করেন।
কৃষিক্ষেত্রে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর অবদান নিচে উল্লেখ করা হলো:-
বর্তমানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি প্রয়োগ করে খাদ্যশস্য বহুগুণে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এ বিষয়টি হাইব্রিড নামে বহুল পরিচিত। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক উচ্চ ফলনশীল জাতের শস্যবীজ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। এসব বীজ ব্যবহার করে শস্যও কয়েকগুণ হারে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। খাদ্যশস্য যেমন- ভুট্টা, ধান, তুলা, টমেটো, পেঁপেসহ অসংখ্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ানো, আগাছা সহিষ্ণু, পোকামাকড় প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন হচ্ছে। বিভিন্ন জাতের মৎস্য সম্পদ (বিশেষত মাগুর, কার্প, তেলাপিয়া ইত্যাদি) বৃদ্ধির জন্য জিন প্রকৌশলকে কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রাণীর আকার ও মাংস বৃদ্ধি, দুধে আমিষের পরিমাণ বাড়ানো, ভেড়ার পশম বাড়ানোর কাজে জিন প্রকৌশলকে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে।
