প্রশ্ন ৯। দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
আরিয়ার মামা জিনোম ও প্রোটিন সিকোয়েন্সের গঠন উপাদানের ডেটাবেজ তৈরির কাজ নিয়ে গবেষণা করছেন। তার মামা গবেষণার কক্ষে প্রবেশের সময় একটি যন্ত্রের দিকে তাকানোর ফলে দরজাটি খুলে গেল।
ক. ক্রায়োসার্জারি কী?
খ. ‘প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে উচ্চ ফলনশীল শস্য উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে’- ব্যাখ্যা কর।
গ. গবেষণার কক্ষে প্রবেশের জন্য যে প্রযুক্তিটি ব্যবহৃত হয়েছে তা বর্ণনা কর।
ঘ. উদ্দীপকে আরিয়ার মামার গবেষণার প্রযুক্তিটি মানব জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবদান রাখছে- বিশ্লেষণ কর।
৯নং প্রশ্নের উত্তর:
ক. ক্রায়োসার্জারি এক ধরনের কাটা ছেড়াবিহীন চিকিৎসা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে অত্যধিক শীতল তাপমাত্রার গ্যাস মানব শরীরে প্রয়োগ করে অস্বাভাবিক বা অপ্রত্যাশিত রোগাক্রান্ত টিস্যু/ত্বক কোষ ধ্বংস করা হয়।
খ. প্রযুক্তির কল্যাণে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতির মাধ্যমে উদ্ভিদের জিন বা বংশগত উপাদানে কৃত্রিম পরিবর্তন এনে উচ্চ ফলনশীল শস্য উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে বিজ্ঞানীরা উদ্ভিদের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করতে পারেন, যেমন- পোকামাকড় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, খরা সহনশীলতা, লবণাক্ত মাটিতে বেড়ে ওঠার সক্ষমতা, দ্রুত বৃদ্ধির গতি এবং অধিক ফলন ক্ষমতা। এই প্রযুক্তির ফলে উদ্ভিদে এমন জিন সংযোজন করা সম্ভব হয়েছে, যা তাদের বেশি ফল দিতে সাহায্য করে। যেমন- বিটি কটন ও বিটি বেগুন। বর্তমান কৃষিক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছেন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে।
গ. উদ্দীপকে গবেষণার কক্ষে প্রবেশের জন্যে যে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে তা হলো বায়োমেট্রিক্সের চোখের মণি বা রেটিনা স্ক্যান পদ্ধতি। নিচে এ পদ্ধতিটি বিশ্লেষণ করা হলো- একজন মানুষের চোখের মণির দৃশ্যমান রঙিন অংশ অপর কোনো মানুষের চোখের মণির সাথে মিল পাওয়া যায় না। এটি অদ্বিতীয় ও স্থায়ী। চোখের মণির চারপাশে বেষ্টিত রঙিন বলয় বিশ্লেষণ করে এ পদ্ধতিতে শনাক্তকরণ করা হয়। এ পদ্ধতিতেই চোখ ও মাথাকে স্থির করে একটি ক্যামেরাসম্পন্ন ডিভাইসের সামনে দাঁড়াতে হয়। এতে প্রায় ১ থেকে ১০ সেকেন্ড সময় লাগে। পূর্ব থেকে ধারণ করা চোখের মণি বা রেটিনা প্যাটার্নের সাথে মিলিয়ে শনাক্তকরণ করা হয়। এটি একটি উচ্চ নিরাপত্তামূলক শনাক্তকরণ পদ্ধতি। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে, মিলিটারিতে এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। আঙ্গুলের ছাপ বা হাতের ছাপের তুলনায় এ পদ্ধতির ফলাফলের সূক্ষ্মতা তুলনামূলকভাবে বেশি। এছাড়া এটি নিরাপত্তামূলক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, যা স্থায়ী এবং দৃশ্যমান।
ঘ. উদ্দীপকের আরিয়ার মামার গবেষণার প্রযুক্তিটি হলো বায়োইনফরমেটিক্স। এই প্রযুক্তি মানব জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। নিচে প্রধান কিছু ক্ষেত্রে বায়োইনফরমেটিক্সের অবদান ব্যাখ্যা করা হলো:
১. বায়োইনফরমেটিক্সের মাধ্যমে ডিএনএ বিশ্লেষণ করে কোনো ব্যক্তি জন্মগতভাবে কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না তা জানা যায়। রোগীর জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে তার জন্য উপযুক্ত ওষুধ ও চিকিৎসা নির্ধারণ করা যায়।
২. বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহারে কম্পিউটারে ওষুধের মডেল তৈরি করে দেখা যায় তা মানব শরীরের কোষে কিভাবে কাজ করবে। বিভিন্ন ওষুধের ট্রায়াল থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে কার্যকর ও নিরাপদ ওষুধ চিহ্নিত করা যায়।
৩. মানুষের সম্পূর্ণ জিনোম ম্যাপিংয়ে বায়োইনফরমেটিক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
৪. ফসলের জিন বিশ্লেষণ করে রোগ প্রতিরোধী ও অধিক ফলনশীল জাত তৈরি করা হচ্ছে। উচ্চ উৎপাদনশীল গবাদিপশু নির্বাচনে সহায়তা করছে।
৫. ভাইরাস জিন বিশ্লেষণ যেমন- COVID-19 ভাইরাসের জিন বিশ্লেষণ করে দ্রুত টিকা তৈরি সম্ভব হয়েছে।
৬. বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের ডিএনএ ব্যবহার করে শনাক্ত করা যায়। বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর জিন বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায় বায়োইনফরমেটিক্স আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির একটি আশীর্বাদস্বরূপ শাখা। এটি শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়, বরং কৃষি, পরিবেশ, খাদ্য ও জীববৈচিত্র্যসহ মানব জীবনের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন ও উন্নয়নের সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে।
