প্রথম অধ্যায়: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বগ্রাম ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত (সকল শিক্ষা বোর্ড ২০২৫)

প্রশ্ন ৬। চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

আইসিটি ক্লাসে শিক্ষক টেলিভিশন, মোবাইল, রেডিওসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসের বর্তমান ক্ষুদ্র আকার ও অধিক ক্ষমতা নিয়ে পাঠদানকালে বললেন, এ সবই সম্ভব হচ্ছে আইসিটির সাম্প্রতিক প্রবণতায় ব্যবহৃত বিশেষ প্রযুক্তির কারণে। এক পর্যায়ে তিনি একজন শিক্ষার্থীর জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের থিয়েটারে 3D মুভি দেখে প্রাপ্ত বাস্তবের মতো অনুভূতি সৃষ্টিকারী প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করলেন।
ক. বায়োমেট্রিক্স কী?
খ. “প্রযুক্তির সাহায্যে একাধিক জীবের জিনোমকে জোড়া লাগিয়ে নতুন জীবকোষ সৃষ্টি করা যায়”-ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ প্রযুক্তিটির চিকিৎসা ও খাদ্যশিল্পে ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের মুভি দেখার প্রযুক্তিটি শিক্ষা ও গবেষণাকে আধুনিকরূপ দিতে সক্ষম- বিশ্লেষণ করে মতামত দাও।

৬নং প্রশ্নের উত্তর:

ক. মানুষের দৈহিক গঠন বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য পরিমাপের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিই হলো বায়োমেট্রিক্স।

খ. প্রযুক্তির সাহায্যে একাধিক জীবের জিনোমকে জোড়া লাগিয়ে নতুন জীব কোষ সৃষ্টি করার প্রক্রিয়াকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন জীবের জিনোম (DNA) থেকে প্রয়োজনীয় জিন সংগ্রহ করে জিন কাটা ও জোড়া লাগানোর প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেসব জিন একত্রে যুক্ত করা হয়। এই সংযুক্ত জিনোম একটি উপযুক্ত কোষে প্রবেশ করানো হয় (যেমন- ব্যাকটেরিয়া বা অন্য প্রাণী কোষ)। কোষটি তখন নতুন বৈশিষ্ট্যসহ একটি নতুন জীব কোষে পরিণত হয়, যা পূর্বের কোনো জীবের মত নয়।

গ. উদ্দীপকের তথ্যানুসারে বিভিন্ন ডিভাইসের ক্ষুদ্র আকার ও অধিক ক্ষমতা সম্বলিত যে প্রযুক্তির কথা বলা হয়েছে তা হলো ন্যানোটেকনোলোজি। চিকিৎসা ও খাদ্য শিল্পে ন্যানোটেকনোলজির ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

খাদ্যশিল্পে ভূমিকা: খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ থেকে খাদ্য উৎপাদন, প্যাকেজিং, পরিবহন এবং পুষ্টি মান বজায় রাখতে ন্যানো টেকনোলজি ব্যবহৃত হয়। ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহারের ফলে খাদ্য সংরক্ষণ করা সহজ হয়েছে। ফলে খাদ্যের নিরাপত্তা বিধান করাও সম্ভব হচ্ছে। এ প্রযুক্তির প্রয়োগে খাদ্যের স্বাদ গুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়াও খাদ্যজাত দ্রব্য প্যাকেজিং এর সিলভার তৈরির কাজে এবং বিভিন্ন জিনিসের প্রলেপ তৈরির কাজে ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহৃত হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রে ভূমিকা: ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে অতি ক্ষুদ্র রোবট তৈরির গবেষণা চলছে। এ ধরনের রোবট মানবদেহের অভ্যন্তরে অস্ত্রোপচার করতে সক্ষম হবে। যেমন এনজিওপ্লাস্টি। সরাসরি রোগাক্রান্ত সেলে চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহৃত হতে পারে যেমন: ন্যানো ক্রায়োসার্জারি। ডায়াগনোসিস ক্ষেত্র যেমন- এন্ডোস্কপি, এনজিওগ্রাম, কলোনোস্কোপি ইত্যাদিতে ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহৃত হতে পারে। ন্যানোসেন্সর ব্যবহার করে মানবদেহের রক্তের ভেতরে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান বায়োমার্কার সম্পূর্ণভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে। ন্যানো সুচ ব্যবহার করে সূক্ষ্মভাবে শুধুমাত্র ক্যান্সার আক্রান্ত কোষে ঔষধ প্রয়োগ করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা যায়। উপরের বর্ণনা থেকে বলা যায় যে, চিকিৎসা ও খাদ্য শিল্পে ন্যানো টেকনোলজি ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

ঘ. উদ্দীপকের তথ্যানুসারে শিক্ষার্থীর 3D মুভি দেখে প্রাপ্ত বাস্তবের মতো অনুভূতি সৃষ্টিকারী প্রযুক্তি হচ্ছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। এই প্রযুক্তি শিক্ষা ও গবেষণাকে আধুনিক রূপ দেয়। নিচে তা বর্ণনা করা হলো-
শিক্ষাক্ষেত্রে ভূমিকা:
১. শিক্ষার্থীরা ভার্চুয়াল পরিবেশে বস্তু, স্থান বা ঘটনাকে বাস্তবভাবে দেখার ও বুঝার সুযোগ পায়। যেমন: ইতিহাসে প্রাচীন সভ্যতা, জীববিজ্ঞানে মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা ভূগোলে আগ্নেয়গিরির অভ্যন্তরের গঠন।
২. চিকিৎসা, বিমানচালনা, ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদিতে ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তব প্রশিক্ষণের পরিবর্তে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে নিরাপদ অনুশীলন সম্ভব।
৩. শিক্ষার্থীরা সরাসরি পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, যা শেখার আগ্রহ ও মেধা বিকাশে সাহায্য করে।
গবেষণাক্ষেত্রে ভূমিকা:
১. বিজ্ঞান, গণিত ও তথ্যপ্রযুক্তিতে জটিল ডেটাসেটকে থ্রিডি মডেলে রূপান্তর করে সহজে বিশ্লেষণ করা যায়।
২. গবেষকেরা ঐতিহাসিক ঘটনা, পরিবেশগত পরিবর্তন বা সমাজবিজ্ঞানভিত্তিক দৃশ্যপটকে VR-এ মডেল করে পরীক্ষা করতে পারেন।
৩. পরীক্ষাগারে বা মাঠপর্যায়ে না গিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো যায়। ৪. গবেষণালব্ধ তথ্যকে আরও বাস্তব ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায়, যা শ্রোতাদের জন্য সহজবোধ্য হয়। সুতরাং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তি শিক্ষা ও গবেষণায় বিপ্লব আনতে পারে। এটি শেখা ও জানার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, যেখানে বাস্তবতার সীমা পেরিয়ে এক নতুন, বাস্তবতার সৃষ্টি হয়। তাই বলা যায়, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি শিক্ষা ও গবেষণাকে আধুনিক ও আরও কার্যকর রূপ দিতে সক্ষম।

About The Author

Check Also

এইচ এস সি চূড়ান্ত মডেল টেস্ট – ২০২৬ এর রুটিন

About The Author Admin See author's posts

Leave a Reply