প্রশ্ন ৭। সিলেট বোর্ড ২০২৫
ড. পিয়া HMPV ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে গবেষণা করে ইলেকট্রনিক ডেটাবেজ তৈরির কাজ করছেন। তাঁর ল্যাবে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত গাড়িটি হালকা ওজনের ও কম জ্বালানি চাহিদা সম্পন্ন।
ক. মেশিন লার্নিং কী?
খ. “প্রতিরক্ষা ও আইসিটি একে অপরের পরিপূরক”- ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত গবেষণার প্রযুক্তিটি বর্ণনা কর।
ঘ. উদ্দীপকের গাড়িতে ব্যবহৃত প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ বর্ণনা কর।
৭নং প্রশ্নের উত্তর:
ক. মেশিন লার্নিং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সর সবচেয়ে সফল ক্ষেত্র, যা মেশিনগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে প্রোগ্রামিং না করে অভিজ্ঞতার আলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেখার দক্ষতা প্রদান করে।
খ. প্রতিরক্ষা এবং আইসিটি একে অপরের পরিপূরক, কারণ আধুনিক যুদ্ধ ও নিরাপত্তা কৌশল এখন সম্পূর্ণ প্রযুক্তি নির্ভর। যেমন- সাইবার আক্রমণ (হ্যাকিং, ডেটা চুরি) থেকে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য, সামরিক নেটওয়ার্ক ও ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার সুরক্ষিত রাখা আইসিটি-এর কাজ। সামরিক অপারেশনের সমন্বয়ের জন্য আইসিটি- ভিত্তিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক (যেমন- সেকিউর রেডিও, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং) ব্যবহৃত হয়। রিয়েল-টাইম ডেটা শেয়ারের মাধ্যমে সৈন্য ও নেতৃত্বের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সম্ভব। ড্রোন, রোবোটিক সিস্টেম এবং গাইডেড মিসাইল আইসিটি- নির্ভর। জিপিএস, সেন্সর এবং অটোনোমাস টেকনোলজি যুদ্ধক্ষেত্রে সঠিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে। অর্থাৎ আইসিটি ছাড়া আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর, আবার প্রতিরক্ষা ছাড়া আইসিটি-ভিত্তিক ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ঝুঁকিতে পড়ে। উভয়ই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং পরস্পর নির্ভরশীল।
গ. উদ্দীপকে ড. পিয়া HMPV ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে গবেষণা করে ইলেকট্রনিক ডেটাবেজ তৈরির কাজ করছেন। এক্ষেত্রে গবেষণার প্রযুক্তিটি হলো বায়োইনফরমেটিক্স। জৈব তথ্যবিজ্ঞান তথা বায়োইনফরমেটিক্স এমন একটি কৌশল যেখানে ফলিত গণিত, তথ্যবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রসায়ন এবং জৈব রসায়ন ব্যবহার করে জীববিজ্ঞানের সমস্যাসমূহ সমাধান করা হয়। এখানে ব্যবহৃত ডেটাসমূহ হলো ডিএনএ, জিন, অ্যামিনো এসিড এবং নিউক্লিক এসিড। এসব ডেটাকে ব্যবহার করে জৈব ও জেনেটিক তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং একত্রীকরণের কাজ কম্পিউটারের মাধমে করা হয়, যা জিনভিত্তিক নতুন ঔষধ আবিষ্কার এবং উন্নয়নের কাজে লাগে। বায়োইনফরমেটিক্স বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হলো বিশাল জৈবডেটার ভাণ্ডারকে সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ, এতে সহজ বিচরণ এবং নির্ভরযোগ্য ডেটা প্রদানের দায়িত্ব পালন করা। যে কোনো ডেটা বিশ্লেষণের পূর্বে একেবারে অর্থহীন ডেটাকে অর্থপূর্ণ জৈবতথ্য প্রদানের উপযোগী করতে কম্পিউটারের ডেটা প্রসেসিং টেকনিক ব্যবহার করা হয়।
ঘ. উদ্দীপকে গাড়িতে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো ন্যানোটেকনোলজি। নিচে এর প্রয়োগক্ষেত্রসমূহ বর্ণনা করা হলো-
১. ন্যানোটেকনোলজি প্রসেসরের উচ্চ গতি, দীর্ঘস্থায়িত্ব, কম শক্তি খরচ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যে ব্যবহার্য। সেই সাথে ডিসপ্লে ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির উন্নয়নে সহায়তা করে।
২. ন্যানো-রোবট ব্যবহার করে অপারেশন করা, যেমন- এনজিওপ্লাস্টি। সরাসরি রোগাক্রান্ত সেলে চিকিৎসা প্রদান করা, যেমন- ন্যানো ক্রায়োসার্জারি, ডায়াগনোসিস করা, যেমন- এন্ডোস্কপি, এনজিওগ্রাম, কলোনোস্কপি ইত্যাদি।
৩. খাদ্যজাত দ্রব্য প্যাকেটিং, খাদ্যে স্বাদ তৈরিতে, খাদ্যের গুণাগুণ রক্ষার্থে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ম্যাটেরিয়াল তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।
৪. জ্বালানি উৎসের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ফুয়েল তৈরির কাজে।
৫. হালকা ওজনের ও কম জ্বালানি চাহিদা সম্পন্ন গাড়ি প্রস্তুতকরণে।
৬. বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সামগ্রী যেমন- ক্রিকেট, টেনিস বলের স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য, ফুটবলের বাতাসে ভারসাম্য রক্ষার্থে।
৭. শিল্প কারখানার ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্যকে ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহার করে অক্ষতিকর বস্তুকে রূপান্তর করে পানিতে নিষ্কাশিত করা যায়।
৮. প্রসাধনীতে জিংক অক্সাইড এর ন্যানো পার্টিকেল যুক্ত হওয়ায় ত্বকের ক্যান্সার রোধ সম্ভব হয়েছে। সেই সাথে সানস্ক্রিন ও ময়েশ্চরাইজার তৈরির কাজে ব্যবহার্য রাসায়নিক পদার্থ তৈরির ক্ষেত্রে এবং এন্টি এজিং ক্রিম তৈরিতেও ন্যানোটেকনোলজি, ব্যবহৃত হয়।
