প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষার প্রস্তুতিঃ ক্লাস-০১

অধ্যায়/ বিষয়: গদ্য : আজ আলোচনার বিষয়:

এ বিষয়টি একটি প্রবন্ধ:

বাংলা প্রথম পত্র

শ্রেণি: দ্বাদশ

পাঠ নির্দেশনাঃ জাদুঘরে কেন যাব : আনিসুজ্জামান (জন্ম ১৯৩৭ —–)

প্রবন্ধটি পড়লে শিখন ফল কী কী হতে পারে আমরা প্রথমে জেনে নেবো

  • জাদুঘরের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে জানতে পারবো
  • বিভিন্ন দেশের মিউজিয়াম তথা জাদুঘর সম্পর্কে জানতে পারবো
  • নানান বিষয়ক জাদুঘরের নামের তালিকা তৈরি করতে পারবো
  • জাতীয় জীবনে জাদুঘরের গুরুত্ব ও পরিমাপ করতে পারবো
  • প্রাচীন ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবো
  • নতুন নতুন জাদুঘর পরিদর্শনের আগ্রহ সৃষ্টি হবে
  • বিভিন্ন ধরণের জাদুঘরের মাঝে পার্থক্য নির্দেশ করতে পারবো

এরপর আমরা জানবো রচনার উৎস:

  • উৎস “জাদুঘরে কেন যাব” প্রবন্ধটি স্মারক পুস্তিকা ” ঐতিহ্যায়ন (২০০৩) থেক সংকলিত।
  • লেখক পরিচয়/ রচয়িতার পরিচয় খুব মনযোগ সহকারে জানবো। কারণ বহুনির্বাচনি ও সৃজনশীল প্রশ্নের অনেক জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর দেয়া যাবে।
  • লেখক পরিচিতি : আনিসুজ্জামান (জন্ম ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতায়। তাঁর পিতার নাম ডা. এ টি এম মোয়াজ্জম মাতার নাম সৈয়দা খাতুন।
  • শিক্ষা জীবন: ১৯৫১ সালে ঢাকার প্রিয়নাথ স্কুল থেকে প্রবেশিকা ১৯৫৩ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। এ ছাড়াও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন শিকাগো ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় হতে।
  • কর্মজীবন: সুদীর্ঘকাল তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভা গে যোগদান করেন বর্তমানে প্রফেসর অব এমিরিটাস হিসাবে আছেন জাতীয় অধ্যাপক ও জাতির অনন্য কৃতীধন্য এ ব্যক্তিত্ব সমাদৃত প্রিয় মুখ।
  • সাহিত্যকর্ম: মূলত গবেষক প্রবন্ধকার ও অনুবাদক সর্বোপরি বাংলাদেশের সংবিধানের বাংলা ভাষায় রূপদানকারী অনন্য কৃতীজন। স্বদেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ
  • #মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪), #মুসলিম বাংলার সাময়িক পত্ৰ (১৯৬৯), #মুনীর চৌধুরী (১৯৭৫), #স্বরূপের সন্ধানে (১৯৭৬), #Social Aspects of Endogenous Intellectual Creativity (1979), #Factory Correspondence and other Bengali Documents in the India Official Library and Records (1981), #আঠারো শতকের বাংলা চিঠি (১৯৮৩), #মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৯৮৩), #পুরনো বাংলা গদ্য (১৯৮৪), #মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯৮৮), #Creativity Reality and Identity (1993), #Cultural Pluralism (1993), #Identity. Religion and Recent History (1995), #আমার একাত্তর (১৯৯৭), #মুক্তিযুদ্ধ এবং তারপর (১৯৯৮), #আমার চোখ (১৯৯৯), #বাঙালি নারী সাহিত্য ও সমাজে (২০০০), #পূর্বগামী (২০০১), #কালনিরবধি (২০০৩), #বিপুলা পৃথিবী (২০১৫)
  • বিদেশি সাহিত্য অনুবাদঃ #অস্কার ওয়াইল্ডের An Ideal Husband এর বাংলা নাট্যরূপ “আদর্শ স্বামী” (১৯৮২), #আলেক্স আরবুঝুভের An Old World Comedy এর বাংলা নাট্যরূপ ” পুরনো পালা” (১৯৮৮)
  • আরো অসংখ্য রচনা রয়েছে এককভাবে এবং যৌথ সম্পাদনায়ও। উল্লেখযোগ্য #বিদ্যাসাগর রচনা সংগ্রহ (যৌথ: ১৯৬৮), #রবীন্দ্রনাথ (১৯৬৮), #Culture and Thought (যৌথ: ১৯৮৩), #মুনীর চৌধুরী রচনাবলী ১-৪ খণ্ড (১৯৮২-১৯৮৬), #বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস প্রথম খণ্ড (যৌথ: ১৯৮৭), #অজিত গুহ স্মারক গ্রন্থ (১৯৯০), #স্মৃতিপটে সিরাজুদ্দীন হোসেন ১৯৯২), #শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মারক গ্রন্থ (১৯৯৩), #নজরুল রচনাবলী ( ১-৪ খণ্ড যৌথ ১৯৯৩), #SAARC: A People’s Perspective (১৯৯৩), #মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচনাবলী ( ১ম ও ৩য় খণ্ড (১৯৯৪– ১৯৯৫), #শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের আত্মকথা (১৯৯৫), #নারীর কথা (যৌথ: ১৯৯৪), #ফতোয়া (যৌথ: ১৯৯৭), #মধুদা ( যৌথ: ১৯৯৭), #আবু হেনা মোস্তফা কামাল রচনাবলী ( ১ম খণ্ড যৌথ: ২০০১), #ওগুস্তে ওসাঁর বাংলা ফরাসি শব্দ সংগ্রহ (যৌথ: ২০০৩), #আইন শব্দ কোষ ( যৌথ: ২০০৬)

পাঠ পরিচয়ঃ

জাদুঘর হচ্ছে সার্বজনীন এক প্রতিষ্ঠান যেখানে মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিচিত্রতা ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংগ্রহ করে রাখা হয়। মূলত তিনটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে

  • ১। সংরক্ষণ
  • ২। প্রদর্শন
  • ৩। গবেষণা

জাদুঘর কেবল বর্তমান প্রজন্মের কাছে নিদর্শনগুলো প্রদর্শন করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেগুলো সংরক্ষণ করাও তার অনন্যতম কাজ। তবে জাদুঘরের সাধারণ লক্ষণ হচ্ছে : (একটু মনযোগ দিয়ে খেয়াল করো)

  • যা চমকপ্রদ,
  • যা অনন্য,
  • যা লুপ্ত প্রায়
  • যা বিস্ময় উদ্রেককারী
  • –এমন সব বস্তু সংগ্রহ করে রাখা।

সংগৃহীত নিদর্শন সমূহ হতে জাদুঘরে যথাযথ পরিচিতিসহ এমন আকর্ষণীয়ভাবে প্রদর্শন করা হয় যেন তা থেকে দর্শকরা অনেক কিছু জানতে পারবেন। এ ছাড়াও আনন্দও উপভোগ করতে পারবেন। জাদুঘরে বক্তৃতা, সেমিনার, চলচ্চিত্র প্রদর্শন সহ আরো অনেক কিছুর আয়োজন করা হয়। এভাবে জাদুঘর ইতিহাস, ঐতিহ্য বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত জ্ঞান ও তথ্যের সঙ্গে জনগনকে আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, 

খুব খেয়াল করো ফ্রান্স ও ব্রিটেন সবার আগে জাদুঘরের মর্যাদা বোঝে বলেই সভ্যতায় ওরা এগিয়ে। তারা নিজেদের যেমন চেনে তেমনি বিশ্বকেও চেনে। আমরা জানি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে নানা দেশের নানা নিদর্শন সংগৃহীত হয়েছে। এ সব দেখে অভিন্ন মানব সত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। মনে হবে সব দেশের মানুষ যা কিছু করেছে সবকিছুর মাঝে আমি আছি। প্রিয় শিক্ষার্থী আমরা জানি জাতীয় জাদুঘর জাতি সত্তার পরিচয়ের অনন্য স্মারক। যে যেখানেই যান সে তার নিজের ও জাতিগত স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারে সহজে। সে নিজস্ব সংস্কৃতির সন্ধান পায়, আত্ম বিশ্বাসের জায়গাটা পোক্ত হয়। জাদুঘর আমাদের জ্ঞান দান করে আমাদের শক্তি যোগায়, আমাদের চেতনাকে জাগ্রত করে। আমাদের মনোজগতকে শানিত করে নিঃসন্দেহে জাদুঘর একটি শক্তিশালী ও গুরুত্বগুণ সামাজিক সংগঠন। মূল কথা হচ্ছে মানবজাতির আত্মপরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে জাদুঘরের ভূমিকার কথা আলোচ্য প্রবন্ধে ব্যক্ত করেছেন প্রবন্ধকার গদ্যের যুক্তিনির্ভর প্রত্যয়ে

#পাঠ_বিশ্লেষণ

  • মিউজিউগ্রাফি বা মিউজিয়াম স্টাডিজ
  • সুললিত
  • আলেকজান্দ্রিয়া
  • ইউরোপীয় রেনেসাঁস
  • ফরাসি বিপ্লব
  • টাওয়ার অব লন্ডন
  • হামিতিয়ে
  • লুভর মিউজিয়াম
  • বরেন্দ্র জাদুঘর
  • বঙ্গবন্ধু জাদুঘর
  • ঢাকা সামরিক জাদুঘর জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর
  • অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
  • অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়াম ব্রিটিশ মিউজিয়াম
  • বলধা গার্ডেন
  • বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর

এভাবে অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবে। পাঠটি ভাল করে আত্মস্ত করলে উদ্দীপকের জ্ঞানমূলক অনুধাবনমূলক, প্রযোগমূলক ও উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তর করতে পারবে।

বিশেষ নির্দেশনাঃ 

ভাল করে পড়বে বিস্তর সময় এখন। সময় নষ্ট করো না যে কোন কিছু জানার থাকলে ফোনও করতে পারো।

মুহাম্মদ রুহুল কাদের, সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, বেপজা পাবলিক স্কুল ও কলেজ, চট্টগ্রাম ইপিজেড। মোবাইল# ০১৭১২ ৬১৮১৬৯

Leave a Comment

Scroll to Top