অধ্যায় ৯: ব্যয় ও ব্যয়ের শ্রেণিবিভাগ — নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন ও নমুনা উত্তর
হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র · দ্বাদশ শ্রেণি · লেকচার শিট — তাত্ত্বিক আলোচনা · মুহম্মদ জিয়াউর রহমান, সহকারী অধ্যাপক (হিসাববিজ্ঞান)
সাধারণ অর্থে ব্যয় বলতে কোনো দ্রব্য বা সেবা সংগ্রহের বিনিময়ে যে অর্থ প্রদান বা তার সমতুল্য কিছু দেওয়া হয় তা বোঝায়। ব্যয়ের মাধ্যমে যে বস্তু বা সেবা পাওয়া যায় তার সুবিধা বর্তমান বা ভবিষ্যৎ — উভয়ই হতে পারে।
সংজ্ঞা: কোনো দ্রব্য বা সেবা উৎপাদন বা সংগ্রহ করার জন্য প্রদত্ত ও প্রদেয় অর্থের সমষ্টিকে ব্যয় বলে। ব্যয় প্রকৃত (Actual) বা অনুমিত (Notional) — উভয় ধরনের হতে পারে। ব্যয় হলো কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সম্পদের আর্থিক পরিমাপ।
ICMA (England and Wales): ব্যয় বলতে শুধু প্রদেয় ব্যয়ের সমষ্টিই বোঝায় না; ব্যয়ের মধ্যে আরোপিত অবচয় এবং ধারণাগত ব্যয়ও (Notional Expenditure) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
হিসাববিজ্ঞানে ব্যয় বলতে বোঝায় — কোনো পণ্য, সেবা বা কাজকে কেন্দ্র করে সংঘটিত টাকায় পরিমাপযোগ্য ত্যাগ; অর্থাৎ কোনো উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য টাকায় পরিমাপযোগ্য অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ত্যাগ।
অথবা, ব্যয় = অতিবাহিত ব্যয় (খরচ + ক্ষতি) + অনতিবাহিত ব্যয় (সম্পদ)
ব্যয়ের যে অংশের সুবিধা ভোগ করা হয়ে গেছে বা যে অংশ ব্যবহারের মাধ্যমে মুনাফা অর্জিত হয়েছে সে অংশকেই খরচ বলে। অর্থাৎ খরচ হলো মেয়াদোত্তীর্ণ বা অতিবাহিত ব্যয়। AICPA-এর মতে, খরচ হলো সব মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যয় যা আয় হতে বাদযোগ্য। উদাহরণ — বিক্রীত পণ্যের উৎপাদন ব্যয়, প্রশাসনিক ব্যয়, বিক্রয় সংক্রান্ত ব্যয়।
মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যয়ের যে অংশ থেকে কোনো সুবিধা পাওয়া যায় না তাকে ক্ষতি বলে। কোনো সম্পত্তি হঠাৎ নষ্ট হয়ে গেলে বা অপ্রচলিত হয়ে পড়লে তার অনতিবাহিত মূল্যের অবণ্টিত অংশও ক্ষতি। আবার আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হলে সেই বাড়তি ব্যয়কেও ক্ষতি বলা হয়।
ব্যয়ের যে অংশের সুবিধা এখনো ভোগ করা হয়নি, ভবিষ্যতে ভোগ করা হবে — সে অংশকে সম্পদ বলে। সব অনতিবাহিত ব্যয়ই (Unexpired cost) সম্পদ।
| পার্থক্যের বিষয় | ব্যয় (Cost) | খরচ (Expense) |
|---|---|---|
| ১. আওতা | আওতা ব্যাপক — অতিবাহিত ও অনতিবাহিত উভয় মূল্যই অন্তর্ভুক্ত | আওতা তুলনামূলক ছোট — ব্যয়ের কেবল অতিবাহিত অংশ |
| ২. সময় বা কাল | এক বা একাধিক হিসাবকালের জন্য সংঘটিত হয়; সুবিধা দীর্ঘ বা স্বল্পকালীন | সুবিধা স্বল্পকালীন, সাধারণত এক বছরের জন্য |
| ৩. লেনদেনের প্রকৃতি | মূলধন জাতীয় ও মুনাফা জাতীয় উভয় লেনদেনই ঘটে | কেবল মুনাফা জাতীয় লেনদেন ঘটে |
| ৪. অংশ | ব্যয় = অতিবাহিত + অনতিবাহিত ব্যয় | খরচ হলো ব্যয়ের অতিবাহিত অংশ |
| ৫. ভবিষ্যৎ সুবিধা | অনতিবাহিত অংশ থেকে ভবিষ্যতে সুবিধা পাওয়া যাবে | ভবিষ্যতে সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই |
| ভিত্তি | শ্রেণিসমূহ |
|---|---|
| ১. ব্যবস্থাপনা কার্য অনুযায়ী | উৎপাদন ব্যয় ও অ-উৎপাদন ব্যয় |
| ২. ব্যয়ের উদ্দেশ্য অনুযায়ী | প্রত্যক্ষ ব্যয় ও পরোক্ষ ব্যয় |
| ৩. ব্যয় আরোপণের সময় অনুযায়ী | পণ্য ব্যয় ও কালীন ব্যয় |
| ৪. ব্যয় আচরণ অনুযায়ী | পরিবর্তনশীল, স্থায়ী ও আধা-পরিবর্তনশীল (মিশ্র) ব্যয় |
| ৫. সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য | নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও অনিয়ন্ত্রণযোগ্য, প্রমাণ ও প্রকৃত, বর্ধিত/পার্থক্যমূলক, সুযোগ, নিমজ্জিত, প্রান্তিক, আরোপিত ও নির্গত ব্যয় |
উৎপাদনের সাথে সরাসরি জড়িত ব্যয়কে উৎপাদন ব্যয় বলে। এর তিনটি উপাদান —
১. প্রত্যক্ষ কাঁচামাল: যে কাঁচামালের উপর ভিত্তি করে পণ্য উৎপাদিত হয় এবং যার মূল্য মুখ্য ব্যয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন — বই উৎপাদনে কাগজ, আসবাবপত্র তৈরিতে কাঠ, জুতা তৈরিতে চামড়া। মেশিনের তেল-মবিল, পরিষ্কারের তুলা, কারখানার মনিহারি ইত্যাদি পরোক্ষ কাঁচামাল, যা উৎপাদন উপরিব্যয়ের অংশ।
২. প্রত্যক্ষ শ্রম: যেসব শ্রমিক তাদের শ্রম দিয়ে কাঁচামালকে সমাপ্ত পণ্যে রূপান্তর করে তাদের শ্রম। এর বিপরীতে প্রদত্ত মূল্যই প্রত্যক্ষ মজুরি। গুদাম থেকে মাল সরবরাহের মজুরির মতো খরচ পরোক্ষ মজুরি — উৎপাদন উপরিব্যয়ের অংশ।
৩. উৎপাদন উপরিব্যয়: প্রত্যক্ষ কাঁচামাল, প্রত্যক্ষ শ্রম ও প্রত্যক্ষ খরচ ছাড়া কারখানার যাবতীয় মুনাফাজাতীয় ব্যয়। যেমন — কারখানার সম্পত্তির অবচয় ও বিমা, গুদাম খরচ, মেরামত খরচ, কারখানা মনিহারি, কারখানা ভাড়া, কর ও বিদ্যুৎ। একে কারখানা উপরিব্যয়ও বলা হয়।
প্রত্যক্ষ মজুরি + উৎপাদন উপরিব্যয় = রূপান্তর ব্যয় (Conversion Cost)
প্রত্যক্ষ কাঁচামাল + প্রত্যক্ষ মজুরি + উৎপাদন উপরিব্যয় = উৎপাদন ব্যয়
উৎপাদন ব্যয় = মুখ্য ব্যয় + কারখানা/উৎপাদন উপরিব্যয়
উৎপাদনের সাথে জড়িত নয়, বরং পণ্যকে বাজারযোগ্য স্তরে পৌঁছাতে ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যে ব্যয় হয় তাকে অ-উৎপাদন ব্যয় বলে। একে বাণিজ্যিক বা পরিচালন ব্যয়ও বলা হয়। এর দুটি ভাগ —
১. বাজারজাতকরণ বা বিক্রয় ব্যয়: বিজ্ঞাপন ব্যয়, বিক্রয়কর্মীর বেতন-কমিশন, দালালের কমিশন, বিক্রয়কেন্দ্রের যাবতীয় ব্যয় ইত্যাদি।
২. প্রশাসনিক ব্যয়: অফিস ভাড়া, কর, মনিহারি, অফিস কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, অফিস যন্ত্রপাতির অবচয়, বিদ্যুৎ ব্যয় ইত্যাদি।
একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যয়গুলো: প্রত্যক্ষ কাঁচামাল ৩,০০,০০০ টাকা, প্রত্যক্ষ মজুরি ১,২৫,০০০ টাকা, প্রত্যক্ষ খরচ ২৫,০০০ টাকা, পরোক্ষ কাঁচামাল ১৫,০০০ টাকা, পরোক্ষ মজুরি ২০,০০০ টাকা, কারখানা ভাড়া ২৫,০০০ টাকা, শক্তি ও তাপ ১০,০০০ টাকা, কারখানার আসবাবপত্রের মেরামত খরচ ৩,০০০ টাকা, কলকব্জা ও যন্ত্রপাতির অবচয় ৫,০০০ টাকা, ফোরম্যানের বেতন ১৫,০০০ টাকা, অফিস কর্মচারীর বেতন ৩৫,০০০ টাকা, নিরীক্ষা ফিস ১২,০০০ টাকা, সাপ্লাইজ খরচ ৭,৫০০ টাকা, আইন খরচ ১০,০০০ টাকা, অফিস সরঞ্জামের অবচয় ৬,০০০ টাকা, বিজ্ঞাপন খরচ ১৩,০০০ টাকা, বিক্রয়কর্মীর বেতন ১০,০০০ টাকা, অনাদায়ী পাওনা ২,০০০ টাকা ও বিতরণ খরচ ৫,৫০০ টাকা।
- ক)উৎপাদন ব্যয়গুলো চিহ্নিত করে মোট পরিমাণ নির্ণয় করো।৪
- খ)অ-উৎপাদন ব্যয়গুলো চিহ্নিত করে মোট পরিমাণ নির্ণয় করো।৪
সমাধান দেখো
| বিবরণ | টাকা | টাকা |
|---|---|---|
| ১। প্রত্যক্ষ/মুখ্য ব্যয় | ||
| প্রত্যক্ষ কাঁচামাল | ৩,০০,০০০ | |
| প্রত্যক্ষ মজুরি | ১,২৫,০০০ | |
| প্রত্যক্ষ খরচ | ২৫,০০০ | ৪,৫০,০০০ |
| ২। কারখানা/উৎপাদন উপরিব্যয় | ||
| পরোক্ষ কাঁচামাল | ১৫,০০০ | |
| পরোক্ষ মজুরি | ২০,০০০ | |
| কারখানা ভাড়া | ২৫,০০০ | |
| শক্তি ও তাপ | ১০,০০০ | |
| কারখানার আসবাবপত্রের মেরামত খরচ | ৩,০০০ | |
| কলকব্জা ও যন্ত্রপাতির অবচয় | ৫,০০০ | |
| ফোরম্যানের বেতন | ১৫,০০০ | ৯৩,০০০ |
| উৎপাদন ব্যয় | ৫,৪৩,০০০ |
| বিবরণ | টাকা | টাকা |
|---|---|---|
| ১। অফিস ও প্রশাসনিক উপরিব্যয় | ||
| অফিস কর্মচারীর বেতন | ৩৫,০০০ | |
| নিরীক্ষা ফিস | ১২,০০০ | |
| সাপ্লাইজ খরচ | ৭,৫০০ | |
| আইন খরচ | ১০,০০০ | |
| অফিস সরঞ্জামের অবচয় | ৬,০০০ | ৭০,৫০০ |
| ২। বিক্রয় ও বণ্টন উপরিব্যয় | ||
| বিজ্ঞাপন খরচ | ১৩,০০০ | |
| বিক্রয়কর্মীর বেতন | ১০,০০০ | |
| অনাদায়ী পাওনা | ২,০০০ | |
| বিতরণ খরচ | ৫,৫০০ | ৩০,৫০০ |
| অ-উৎপাদন ব্যয় | ১,০১,০০০ |
প্রত্যক্ষ ব্যয়: যে ব্যয় প্রত্যেকটি পণ্যের জন্য আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়। মূলত প্রত্যক্ষ কাঁচামাল ও প্রত্যক্ষ শ্রম। যেমন — একটি টেবিল তৈরিতে যে কাঠ ও শ্রম লাগে।
পরোক্ষ ব্যয়: যে ব্যয় প্রতিটি পণ্যের জন্য আলাদা করে চিহ্নিত করা যায় না। যেমন — একটি টেবিলের পেছনে কতটুকু কারখানা বা অফিস খরচ হয়েছে তা নির্দিষ্ট করা যায় না।
একটি পণ্য উৎপাদন করতে যে ব্যয় ঐ পণ্যের সাথে সংযুক্ত থাকে তাকে পণ্য ব্যয় বলে — প্রত্যক্ষ কাঁচামাল, প্রত্যক্ষ মজুরি, প্রত্যক্ষ অন্যান্য ব্যয় ও উৎপাদন উপরিব্যয়। এ ব্যয় পণ্যকে বিক্রয়যোগ্য করে মজুদ করে বলে একে মজুদপণ্যযোগ্য ব্যয় (Inventoriable Cost)-ও বলা হয়।
পণ্য ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন ব্যয়কে কালীন ব্যয় বলে; এটি সময়ের সাথে সম্পর্কিত এবং ঐ সময়ের আয় থেকেই নিষ্পত্তি করতে হয়। সাধারণত অফিস ও প্রশাসনিক উপরিব্যয় এবং বিক্রয় ও বণ্টন উপরিব্যয় কালীন ব্যয়। উদাহরণ — বিক্রয় কমিশন, অফিস ভাড়া, বিজ্ঞাপন খরচ, নির্বাহীদের বেতন। একক উৎপাদন ব্যয় নির্ণয়ে কালীন ব্যয়কে উৎপাদিত একক দ্বারা ভাগ করা হয় না।
উদাহরণ-০১ এর একই ব্যয়গুলো ব্যবহার করে — (ক) পণ্য ব্যয়গুলো চিহ্নিত করে মোট পরিমাণ এবং (খ) কালীন ব্যয়গুলো চিহ্নিত করে মোট পরিমাণ নির্ণয় করো।
সমাধান দেখো
| বিবরণ | টাকা | টাকা |
|---|---|---|
| ১। প্রত্যক্ষ/মুখ্য ব্যয় | ||
| প্রত্যক্ষ কাঁচামাল | ৩,০০,০০০ | |
| প্রত্যক্ষ মজুরি | ১,২৫,০০০ | |
| প্রত্যক্ষ খরচ | ২৫,০০০ | ৪,৫০,০০০ |
| ২। কারখানা/উৎপাদন উপরিব্যয় | ||
| পরোক্ষ কাঁচামাল, পরোক্ষ মজুরি, কারখানা ভাড়া, শক্তি ও তাপ, কারখানার আসবাবপত্রের মেরামত, কলকব্জার অবচয় ও ফোরম্যানের বেতন | ৯৩,০০০ | |
| পণ্য / উৎপাদন ব্যয় | ৫,৪৩,০০০ |
| বিবরণ | টাকা | টাকা |
|---|---|---|
| ১। অফিস ও প্রশাসনিক উপরিব্যয় (বেতন ৩৫,০০০ + নিরীক্ষা ফিস ১২,০০০ + সাপ্লাইজ ৭,৫০০ + আইন খরচ ১০,০০০ + অবচয় ৬,০০০) | ৭০,৫০০ | |
| ২। বিক্রয় ও বণ্টন উপরিব্যয় (বিজ্ঞাপন ১৩,০০০ + বিক্রয়কর্মীর বেতন ১০,০০০ + অনাদায়ী পাওনা ২,০০০ + বিতরণ খরচ ৫,৫০০) | ৩০,৫০০ | |
| কালীন ব্যয় | ১,০১,০০০ |
প্রতিষ্ঠানের কার্যমাত্রা পরিবর্তনের সাথে ব্যয়ের যে প্রতিক্রিয়া হয় তাকে ব্যয় আচরণ বলে। আচরণের ভিত্তিতে ব্যয় তিন প্রকার —
| ধরন | সংজ্ঞা ও উদাহরণ | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| পরিবর্তনশীল ব্যয় | উৎপাদনের হ্রাস-বৃদ্ধিতে সরাসরি ও আনুপাতিক হারে যে ব্যয়ের মোট পরিমাণ বদলায়। যেমন — প্রত্যক্ষ কাঁচামাল, প্রত্যক্ষ মজুরি, কারখানা জ্বালানি। | মোট পরিমাণ পরিবর্তনশীল; একক প্রতি ব্যয় স্থির; সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। |
| স্থায়ী ব্যয় | একটি নির্দিষ্ট কার্যস্তর পর্যন্ত উৎপাদন কম-বেশি হলেও যে ব্যয় বদলায় না। যেমন — কারখানা ভাড়া, ব্যবস্থাপকের বেতন, দালানের অবচয়। | মোট ব্যয় স্থির; একক প্রতি ব্যয় উৎপাদনের সাথে হ্রাস-বৃদ্ধি পায়। |
| মিশ্র/আধা-পরিবর্তনশীল ব্যয় | যে ব্যয়ের একটি অংশ স্থির ও অন্য অংশ পরিবর্তনশীল। যেমন — টেলিফোন বিল, বিদ্যুৎ বিল। | আনুপাতিক হারে হ্রাস-বৃদ্ধি পায় না; উভয় অংশ আলাদা করে বিশ্লেষণ করতে হয়। |
নিয়ন্ত্রণযোগ্য ব্যয়: যে ব্যয় ব্যবস্থাপনার আয়ত্তের মধ্যে থাকে এবং ইচ্ছা করলে হ্রাস-বৃদ্ধি করা যায়। পরিবর্তনশীল ব্যয় সাধারণত নিয়ন্ত্রণযোগ্য। যে ব্যয়কেন্দ্রে ব্যয়টি সংঘটিত হয় সেখানেই তা নিয়ন্ত্রিত হয়।
অনিয়ন্ত্রণযোগ্য ব্যয়: যে ব্যয় ব্যবস্থাপনার আয়ত্তের বাইরে। যেমন — চুক্তি অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া, স্থায়ী কর্মচারীদের বেতন।
মুনাফাজাতীয় ব্যয়: যে ব্যয়ের সুবিধা সংশ্লিষ্ট হিসাবকালেই ভোগ করা হয়। যেমন — মজুরি, বেতন, কারখানা ও অফিস ভাড়া, বিদ্যুৎ, পরিবহন, মেরামত ও অবচয়।
মূলধনজাতীয় ব্যয়: যে ব্যয়ের ফল একাধিক হিসাবকাল ধরে পাওয়া যায়। যেমন — দালানকোঠা, আসবাবপত্র, কলকব্জা ও স্থায়ী সম্পদ ক্রয় এবং তার পরিবহন ও সংস্থাপন ব্যয়, সম্পদের কার্যকরী ক্ষমতা বৃদ্ধিজনিত ব্যয়।
| শ্রেণি | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| প্রকৃত বা ঐতিহাসিক ব্যয় (Historical Cost) | যে ব্যয় প্রকৃতপক্ষে হয়ে গেছে। যেমন — ব্রিজ, রাস্তাঘাট ও দালানকোঠার নির্মাণ ব্যয়। |
| পূর্বনির্ধারিত ব্যয় (Predetermined Cost) | আগামী হিসাবকালে উৎপাদন ব্যয় কত হওয়া উচিত তা আগেই নির্ধারণ করা। একেই মূলত প্রমাণ ব্যয় বা বাজেটারি নিয়ন্ত্রণ বলে। |
| স্পট ব্যয় (Explicit Cost) | হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ প্রকৃত ব্যয়। |
| আনুমানিক ব্যয় (Implicit Cost) | যে ব্যয়ের বিপক্ষে কোনো দলিল নেই, কিন্তু বিশেষ প্রয়োজনে নির্ধারণ করতে হয় — যেমন মালিকের নিজ দালানের ভাড়া বা মালিকের মূলধনের সুদ। |
| পৃথক ব্যয় (Separate Cost) | কোনো বিশেষ পণ্যের জন্য করা ব্যয় — যেমন ডিজাইন ব্যয়। |
| যৌথ ব্যয় (Joint Cost) | একই প্রক্রিয়ায় একাধিক পণ্য উৎপাদনের ব্যয় — যেমন একসাথে চিনি ও চিটাগুড় উৎপাদনের ব্যয়। |
| সাধারণ ব্যয় (Common Cost) | প্রতিষ্ঠানের সব বিভাগ যে ব্যয়ের উপযোগ ভোগ করে — যেমন সাধারণ ব্যবস্থাপকের বেতন। |
একাধিক বিকল্পের মধ্য থেকে সঠিকটি বেছে নিতে যেসব ভবিষ্যৎ ব্যয় বিবেচনা করা হয় এবং যা বিকল্পভেদে ভিন্ন হয় — তা প্রাসঙ্গিক ব্যয়। আর যেসব ব্যয় বিকল্পের মধ্যে কোনো পার্থক্য তৈরি করে না, তা অপ্রাসঙ্গিক ব্যয়।
প্রাসঙ্গিক ব্যয় = ২০,০০০ × ৮০ = ১৬,০০,০০০ টাকা
অপ্রাসঙ্গিক ব্যয় = বাজার গবেষণা ব্যয় ১,০০,০০০ টাকা (ইতোমধ্যে খরচ হয়ে গেছে)
সর্বোত্তম বিকল্প গ্রহণ করায় বর্জিত বিকল্প থেকে যে সুযোগ ত্যাগ করতে হয় তাই সুযোগ ব্যয়। এর জন্য কোনো অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয় না, তবুও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিবেচনা করতে হয়। যেমন — কাঠের ব্যবসায় ৫০,০০০ টাকা আয় করা যেত, কিন্তু তিনি আসবাবপত্রের ব্যবসা করলেন; এক্ষেত্রে আসবাবপত্র ব্যবসায়ের সুযোগ ব্যয় ৫০,০০০ টাকা।
দুটি বিকল্প কর্মপন্থার মোট ব্যয়ের মধ্যে যে পার্থক্য তৈরি হয় তাকে তুলনামূলক বা পার্থক্যমূলক ব্যয় বলে। এই মোট ব্যয়ের মধ্যে স্থায়ী, পরিবর্তনশীল ও আধা-পরিবর্তনশীল — সব ধরনের ব্যয় থাকতে পারে।
উদাহরণ ২: দোকান থেকে প্যান্ট ও শার্ট কিনলে লাগে ৫,০০০ টাকা; নিজে বানালে কাপড় ৩,০০০ + মজুরি ১,৫০০ = ৪,৫০০ টাকা। পার্থক্যমূলক ব্যয় = ৫,০০০ − ৪,৫০০ = ৫০০ টাকা।
যে ব্যয় অতীতে সংঘটিত হয়েছে এবং আর উদ্ধার করা যায় না তাকে নিমজ্জিত ব্যয় বলে। এটি বর্তমান বা ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত দ্বারা পরিবর্তন করা যায় না, তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে একে অপ্রাসঙ্গিক ধরা হয়।
নিমজ্জিত ব্যয় = পুস্তকমূল্য − বিক্রয়মূল্য = ৩০,০০০ − ২৫,০০০ = ৫,০০০ টাকা
| ব্যয় | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| প্রমাণ ব্যয় ও প্রকৃত ব্যয় | পূর্বে নির্ধারিত ব্যয় হলো প্রমাণ ব্যয়; প্রকৃতপক্ষে যা খরচ হয় তা প্রকৃত ব্যয়। প্রমাণ ব্যয় প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে বড় হলে অনুকূল বিচ্যুতি, ছোট হলে প্রতিকূল বিচ্যুতি। |
| প্রান্তিক ব্যয় (Marginal Cost) | উৎপাদনের পরিমাণ পরিবর্তনে পরিবর্তনশীল ব্যয়ের যে পরিবর্তন ঘটে। প্রান্তিক ব্যয় = প্রত্যক্ষ কাঁচামাল + প্রত্যক্ষ শ্রম + পরিবর্তনশীল উপরিব্যয়। |
| আরোপিত ব্যয় (Imputed Cost) | যে ব্যয়ে নগদের বহির্গমন ঘটে না ও আর্থিক বিবরণীতে দেখানো হয় না, কেবল সিদ্ধান্তের জন্য বিবেচনা করা হয় — যেমন মালিকের মূলধনের সুদ, নিজ দালানের ভাড়া। |
| নির্গত বা পকেট হতে ব্যয় (Out of Pocket Cost) | নতুন সিদ্ধান্তের ফলে যে পরিমাণ নগদ অর্থ ব্যয় হয়। ক্রয় না প্রস্তুত (Make or Buy) সিদ্ধান্তে এটি প্রাসঙ্গিক। |
| পরিহারযোগ্য ও অপরিহার্যযোগ্য ব্যয় | উৎপাদন প্রক্রিয়া বা সংগঠন বদলে যে ব্যয় বর্জন করা যায় তা পরিহারযোগ্য (যেমন শ্রমিকের মজুরি); যা বর্জন করা যায় না তা অপরিহার্যযোগ্য (যেমন বাড়ি ভাড়া, স্থায়ী কর্মচারীর বেতন)। |
| উৎপাদন বন্ধ সংক্রান্ত ব্যয় (Shutdown Cost) | কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও যে ব্যয় চলতেই থাকে — যেমন যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাকর্মীর বেতন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে এটি প্রাসঙ্গিক। |
| পরিত্যাগ সংক্রান্ত ব্যয় (Abandoning Cost) | কোনো সম্পত্তি বা প্রকল্প পরিত্যাগ করতে যে ব্যয় হয় — যেমন পুরনো অকেজো যন্ত্র অপসারণের খরচ। |
তোমরা যারা এখন দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছ, তাদের এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৭ সালে। তাই বিগত ৩–৪ বছরের বোর্ড প্রশ্ন সমাধান করাই সবচেয়ে বেশি কাজে দেবে। এই অধ্যায়ের জন্য নিচের প্রশ্নপত্রগুলো ধারাবাহিকভাবে চর্চা করো —
- ২০২৬ সাল: এ বছর সকল শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষা হয়েছে — অর্থাৎ একটিমাত্র প্রশ্নপত্র। তবে বন্যার কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছে। দুটি প্রশ্নপত্রই সমাধান করবে।
- ২০২৫ সাল: সকল শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্ন।
- ২০২৪ সাল: সকল শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্ন।


Leave a Reply