এটি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নয়। একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত উদ্যোগবিস্তারিত
BEPZA College Family Chattogramহিসাববিজ্ঞান পাঠশালা ও শিক্ষা-সহায়ক অ্যাপমুহম্মদ জিয়াউর রহমান · সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান

অধ্যায় ৮: দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদের হিসাব — নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (হিসাববিজ্ঞান ১ম পত্র)

অধ্যায় ৮: দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদের হিসাব — নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন ও নমুনা উত্তর

হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র · দ্বাদশ শ্রেণি · পর্ব-০৭ (পাঠ পরিকল্পনা-০৭ অনুসারে) · মুহম্মদ জিয়াউর রহমান, সহকারী অধ্যাপক (হিসাববিজ্ঞান)

কীভাবে ব্যবহার করবে: সৃজনশীল প্রশ্নে উদ্দীপকের আলোকে তিনটি প্রশ্ন থাকে — ক (২ নম্বর), খ (৪ নম্বর) ও গ (৪ নম্বর), মোট ১০ নম্বর। প্রতিটি প্রশ্ন আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো, তারপর “নমুনা উত্তর দেখো” বোতামে চাপ দাও। ৫টি নমুনা প্রশ্নই স্যারের লেকচার শিটের নমুনা প্রশ্ন ও নমুনা উত্তর — সবগুলোই ২০১৯ সালের বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডের সৃজনশীল প্রশ্ন।
“নিজেকে যাচাই করো” অংশ: প্রতিটি নমুনা প্রশ্নের পরে ঠিক একই ধরনের একটি করে অতিরিক্ত অনুশীলন প্রশ্ন উত্তর-সংকেতসহ দেওয়া আছে। এগুলো বোর্ড প্রশ্নের ধাঁচে তৈরি অনুশীলন প্রশ্ন — কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্ন নয়।
নমুনা প্রশ্ন ০১ · রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড ২০১৯
মল্লিক কোম্পানি ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর ১,৮০,০০০ টাকা দিয়ে একটি নতুন মেশিন ক্রয় করে। মেশিনটির আয়ুষ্কাল অনুমান করা হয় ৫ বছর। আয়ুষ্কাল শেষে মেশিনটির ভগ্নাবশেষ মূল্য অনুমান করা হয় ২০,৫০০ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ৩১ ডিসেম্বর তারিখে হিসাব বছর শেষ করে।
  • ক)সরলরৈখিক পদ্ধতিতে মল্লিক কোম্পানির মেশিনের ২০১৮ সালের অবচয়ের পরিমাণ নির্ণয় করো।
  • খ)মল্লিক কোম্পানির বইতে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখে প্রয়োজনীয় জাবেদা দাখিলা দাও। (ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই)
  • গ)প্রথম বছর শেষে মল্লিক কোম্পানির হিসাব বইতে মেশিন হিসাব ও অবচয় হিসাব প্রস্তুত করো।
নমুনা উত্তর দেখো
১(ক) নং প্রশ্নের উত্তর
সরলরৈখিক পদ্ধতিতে ২০১৮ সালের অবচয় নির্ণয়:

সম্পত্তির অবচয়যোগ্য মূল্য = মোট ক্রয়মূল্য − ভগ্নাবশেষ মূল্য
= ১,৮০,০০০ টাকা − ২০,৫০০ টাকা = ১,৫৯,৫০০ টাকা

বার্ষিক অবচয় = অবচয়যোগ্য মূল্য ÷ আয়ুষ্কাল
= ১,৫৯,৫০০ টাকা ÷ ৫ বছর = ৩১,৯০০ টাকা

মেশিনটি ১ অক্টোবর তারিখে ক্রয় করা হয়েছে, অর্থাৎ ২০১৮ সালে ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ৩ মাস।
∴ ২০১৮ সালের অবচয় = ৩১,৯০০ টাকা ÷ ১২ মাস × ৩ মাস = ৭,৯৭৫ টাকা
বিশেষ নোট: সরলরৈখিক পদ্ধতিতে সম্পত্তির অবচয়যোগ্য মূল্যের ওপর অবচয় নির্ণয় করা হয়। মোট অর্জন ব্যয় থেকে আনুমানিক ভগ্নাবশেষ মূল্য বাদ দিলে অবচয়যোগ্য মূল্য পাওয়া যায়। সাধারণত সম্পত্তি যত মাস ব্যবহৃত হয়েছে, ঠিক তত মাসের অবচয়ই খরচ হিসেবে ধরা হয়।
১(খ) নং প্রশ্নের উত্তর
মল্লিক কোম্পানি
সাধারণ জাবেদা
তারিখহিসাব শিরোনাম ও ব্যাখ্যাসূত্রডেবিট টাকাক্রেডিট টাকা
২০১৮ খ্রি.
অক্টো-০১
মেশিন হিসাব ডে.
নগদান হিসাব ক্রে.
১,৮০,০০০

১,৮০,০০০
ডিসে-৩১অবচয় খরচ হিসাব ডে.
পুঞ্জীভূত অবচয়-মেশিন ক্রে.
৭,৯৭৫

৭,৯৭৫
ডিসে-৩১আয় বিবরণী ডে.
অবচয় খরচ হিসাব ক্রে.
৭,৯৭৫

৭,৯৭৫
মোট =১,৯৫,৯৫০১,৯৫,৯৫০
১(গ) নং প্রশ্নের উত্তর
মল্লিক কোম্পানি
খতিয়ান বই
মেশিন হিসাব
তারিখবিবরণসূত্রডেবিট টাকাক্রেডিট টাকাডেবিট জেরক্রেডিট জের
২০১৮ খ্রি.
অক্টো-০১
নগদান১,৮০,০০০১,৮০,০০০
অবচয় খরচ হিসাব
তারিখবিবরণসূত্রডেবিট টাকাক্রেডিট টাকাডেবিট জেরক্রেডিট জের
২০১৮ খ্রি.
ডিসে-৩১
পুঞ্জীভূত অবচয়-মেশিন৭,৯৭৫৭,৯৭৫
ডিসে-৩১আয় বিবরণী৭,৯৭৫
নিজেকে যাচাই করো

রূপসা ট্রেডার্স ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল তারিখে ২,৪০,০০০ টাকায় একটি জেনারেটর ক্রয় করে। জেনারেটরটির আনুমানিক আয়ুষ্কাল ৪ বছর এবং ভগ্নাবশেষ মূল্য ২৪,০০০ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বর তারিখে হিসাব বছর শেষ করে এবং সরলরৈখিক পদ্ধতিতে অবচয় ধার্য করে।

  • ক)সরলরৈখিক পদ্ধতিতে ২০১৯ সালের অবচয়ের পরিমাণ নির্ণয় করো।
  • খ)৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রয়োজনীয় জাবেদা দাখিলা দাও।
  • গ)প্রথম বছর শেষে জেনারেটর হিসাব ও অবচয় খরচ হিসাব প্রস্তুত করো।
উত্তর সংকেত দেখো
ক) অবচয়যোগ্য মূল্য = ২,৪০,০০০ − ২৪,০০০ = ২,১৬,০০০ টাকা। বার্ষিক অবচয় = ২,১৬,০০০ ÷ ৪ = ৫৪,০০০ টাকা। ১ এপ্রিল থেকে ৩১ ডিসেম্বর = ৯ মাস, তাই ২০১৯ সালের অবচয় = ৫৪,০০০ × ৯/১২ = ৪০,৫০০ টাকা

খ) তিনটি দাখিলা: (১) জেনারেটর হিসাব ডে. ২,৪০,০০০ / নগদান হিসাব ক্রে. ২,৪০,০০০; (২) অবচয় খরচ হিসাব ডে. ৪০,৫০০ / পুঞ্জীভূত অবচয়-জেনারেটর ক্রে. ৪০,৫০০; (৩) আয় বিবরণী ডে. ৪০,৫০০ / অবচয় খরচ হিসাব ক্রে. ৪০,৫০০। জাবেদার উভয় দিকের যোগফল ৩,২১,০০০ টাকা

গ) জেনারেটর হিসাবের ডেবিট জের ২,৪০,০০০ টাকা; অবচয় খরচ হিসাব ৪০,৫০০ টাকা ডেবিট হয়ে আয় বিবরণীতে স্থানান্তরের পর জের শূন্য।
নমুনা প্রশ্ন ০২ · চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড ২০১৯
মেঘনা এন্টারপ্রাইজ ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে ৫,০০,০০০ টাকা মূল্যের একটি কলকব্জা ক্রয় করে। ১ জুলাই ২০১৮ তারিখে ২,৫০,০০০ টাকা মূল্যের আরও একটি কলকব্জা ক্রয় করে। নতুন ক্রীত কলকব্জাটির জন্য বহন খরচ বাবদ ২০,০০০ টাকা এবং সংস্থাপন ব্যয় বাবদ ৩০,০০০ টাকা নির্বাহ হয়। প্রতিষ্ঠানটি কলকব্জার উপর ১০% হারে অবচয় ধার্য করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বর হিসাবকাল শেষ হয়।
  • ক)মেঘনা এন্টারপ্রাইজের ব্যবসায়ে ২০১৮ সালের কলকব্জা আনয়ন ও ক্রয়-এর জাবেদা দাখিলা দাও। (ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই)
  • খ)সরলরৈখিক পদ্ধতিতে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের অবচয় নির্ণয় করো।
  • গ)২০১৮ ও ২০১৯ সালের জন্য কলকব্জা হিসাব ও অবচয় সঞ্চিতি হিসাব দেখাও।
নমুনা উত্তর দেখো
২(ক) নং প্রশ্নের উত্তর
মেঘনা এন্টারপ্রাইজ
সাধারণ জাবেদা
তারিখহিসাব শিরোনাম ও ব্যাখ্যাসূত্রডেবিট টাকাক্রেডিট টাকা
২০১৮ খ্রি.
জানু-০১
কলকব্জা হিসাব ডে.
নগদান হিসাব ক্রে.
৫,০০,০০০

৫,০০,০০০
জুলা-০১কলকব্জা হিসাব (২,৫০,০০০ + ২০,০০০ + ৩০,০০০) ডে.
নগদান হিসাব ক্রে.
৩,০০,০০০

৩,০০,০০০
মোট =৮,০০,০০০৮,০০,০০০
মনে রেখো: সম্পত্তিকে ব্যবহার-উপযোগী করতে যত ব্যয় হয় (বহন খরচ, সংস্থাপন ব্যয়, আমদানি শুল্ক ইত্যাদি) সবই সম্পত্তির ক্রয়মূল্যের সাথে যোগ হয়ে মোট অর্জন ব্যয় গঠন করে।
২(খ) নং প্রশ্নের উত্তর
সরলরৈখিক পদ্ধতিতে অবচয় খরচ = সম্পত্তির অবচয়যোগ্য মূল্য × অবচয়ের শতকরা হার × (ব্যবহৃত মাস ÷ ১২ মাস)
সাল১ম কলকব্জা২য় কলকব্জামোট অবচয়
২০১৮৫,০০,০০০ × ১০%
= ৫০,০০০ টাকা
৩,০০,০০০ × ১০% × ৬/১২
= ১৫,০০০ টাকা
৫০,০০০ + ১৫,০০০
= ৬৫,০০০ টাকা
২০১৯৫,০০,০০০ × ১০%
= ৫০,০০০ টাকা
৩,০০,০০০ × ১০%
= ৩০,০০০ টাকা
৫০,০০০ + ৩০,০০০
= ৮০,০০০ টাকা
✎ উৎস নথির সংশোধন: স্যারের শিটে ২০১৯ সালের মোট অবচয় ৮৫,০০০ টাকা ছাপা হয়েছে। কিন্তু ৫০,০০০ + ৩০,০০০ = ৮০,০০০ টাকা, এবং শিটের অবচয় সঞ্চিতি হিসাবের সমাপনী জের ১,৪৫,০০০ টাকাও (৬৫,০০০ + ৮০,০০০) ৮০,০০০ ধরেই মেলে। তাই এখানে ৮০,০০০ টাকা দেখানো হলো।
বিশেষ নোট: ১ জানুয়ারি তারিখে ক্রীত কলকব্জাটিকে ১ম কলকব্জা এবং ১ জুলাই তারিখে ক্রীত কলকব্জাটিকে ২য় কলকব্জা ধরা হয়েছে। ২০১৮ সালে ১ম কলকব্জাটি পূর্ণ বছর এবং ২য় কলকব্জাটি মাত্র ৬ মাস ব্যবহৃত হয়েছে; ২০১৯ সালে উভয়টিই পূর্ণ বছর ব্যবহৃত হয়েছে।
২(গ) নং প্রশ্নের উত্তর
মেঘনা এন্টারপ্রাইজ
খতিয়ান বই
কলকব্জা হিসাব
তারিখবিবরণসূত্রডেবিট টাকাক্রেডিট টাকাডেবিট জেরক্রেডিট জের
২০১৮ খ্রি.
জানু-০১
নগদান৫,০০,০০০৫,০০,০০০
জুলা-০১নগদান৩,০০,০০০৮,০০,০০০
অবচয় সঞ্চিতি হিসাব
তারিখবিবরণসূত্রডেবিট টাকাক্রেডিট টাকাডেবিট জেরক্রেডিট জের
২০১৮ খ্রি.
ডিসে-৩১
অবচয় খরচ৬৫,০০০৬৫,০০০
২০১৯ খ্রি.
ডিসে-৩১
অবচয় খরচ৮০,০০০১,৪৫,০০০
বিশেষ নোট: “অবচয় সঞ্চিতি হিসাব”-এর ব্যবহার আধুনিক হিসাববিজ্ঞানে নেই বললেই চলে। বর্তমানে এর পরিবর্তে “পুঞ্জীভূত অবচয় হিসাব” বা “ক্রমযোজিত অবচয় হিসাব” খোলা হয়। এটি একটি কন্ট্রা বা বিপরীত সম্পদ হিসাব — প্রতি বছর আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে সংশ্লিষ্ট সম্পদ থেকে এটির সমাপনী জের বাদ দিয়ে দেখাতে হয়।
নিজেকে যাচাই করো

পদ্মা ট্রেডার্স ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে ৪,০০,০০০ টাকায় একটি যন্ত্র ক্রয় করে। ১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে ২,০০,০০০ টাকায় আরও একটি যন্ত্র ক্রয় করে; দ্বিতীয় যন্ত্রটির বহন খরচ ১৫,০০০ টাকা এবং সংস্থাপন ব্যয় ২৫,০০০ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি যন্ত্রের উপর ১০% হারে সরলরৈখিক পদ্ধতিতে অবচয় ধার্য করে। হিসাবকাল ৩১ ডিসেম্বর।

  • ক)২০১৯ সালের যন্ত্র ক্রয়ের জাবেদা দাখিলা দাও।
  • খ)২০১৯ ও ২০২০ সালের অবচয়ের পরিমাণ নির্ণয় করো।
  • গ)২০১৯ ও ২০২০ সালের জন্য পুঞ্জীভূত অবচয় হিসাব প্রস্তুত করো।
উত্তর সংকেত দেখো
ক) ১ম যন্ত্র: যন্ত্র হিসাব ডে. ৪,০০,০০০ / নগদান ক্রে. ৪,০০,০০০। ২য় যন্ত্র: মোট ব্যয় = ২,০০,০০০ + ১৫,০০০ + ২৫,০০০ = ২,৪০,০০০ টাকা; যন্ত্র হিসাব ডে. ২,৪০,০০০ / নগদান ক্রে. ২,৪০,০০০। জাবেদার যোগফল ৬,৪০,০০০ টাকা।

খ) ২০১৯: ৪,০০,০০০ × ১০% = ৪০,০০০ এবং ২,৪০,০০০ × ১০% × ৩/১২ = ৬,০০০ → মোট ৪৬,০০০ টাকা। ২০২০: ৪০,০০০ + ২৪,০০০ = ৬৪,০০০ টাকা

গ) পুঞ্জীভূত অবচয় হিসাবের ক্রেডিট জের — ২০১৯ শেষে ৪৬,০০০ টাকা এবং ২০২০ শেষে ১,১০,০০০ টাকা
নমুনা প্রশ্ন ০৩ · ঢাকা শিক্ষাবোর্ড ২০১৯
শামীম এন্টারপ্রাইজ ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে ৪,০০,০০০ টাকা মূল্যের একটি মেশিন ক্রয় করে। মেশিনটির বহন ব্যয় এবং সংস্থাপন ব্যয় যথাক্রমে ১০,০০০ টাকা এবং ২০,০০০ টাকা ছিল। মেশিনটির অনুমিত আয়ুষ্কাল ৫ বছর এবং ভগ্নাবশেষ মূল্য ৪০,০০০ টাকা। মেশিনটির উপর ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে অবচয় ধার্য করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
  • ক)অবচয়ের হার ও প্রথম বছরের অবচয়ের পরিমাণ নির্ণয় করো।
  • খ)প্রথম দুই বছরের জন্য পুঞ্জীভূত অবচয় হিসাব প্রস্তুত করো।
  • গ)প্রথম দুই বছরের জন্য মেশিন হিসাব ও অবচয় হিসাব প্রস্তুত করো।
নমুনা উত্তর দেখো
৩(ক) নং প্রশ্নের উত্তর
অবচয়ের হার নির্ণয়:
ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে অবচয়ের হার = সরলরৈখিক পদ্ধতির অবচয়ের হার × ২
= (১ ÷ আয়ুষ্কাল) × ১০০ × ২ = (১ ÷ ৫) × ১০০ × ২ = ০.২০ × ১০০ × ২ = ৪০%

প্রথম বছরের অবচয়ের পরিমাণ:
= (মেশিনের ক্রয়মূল্য + বহন খরচ + সংস্থাপন ব্যয়) × অবচয়ের হার
= (৪,০০,০০০ + ১০,০০০ + ২০,০০০) × ৪০%
= ৪,৩০,০০০ × ৪০% = ১,৭২,০০০ টাকা
বিশেষ নোট: ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে অবচয় নির্ণয় করতে হলে অবশ্যই অবচয়ের হার জানা দরকার। ১ম বছরে সম্পত্তির মোট অর্জনব্যয়ের ওপর এবং পরবর্তী বছরগুলোতে পুস্তকমূল্যের ওপর অবচয় ধরা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রথম বছরে ভগ্নাবশেষ মূল্য বিবেচনায় আনা হয় না; সম্পত্তির জীবনকালের শেষতম বছরে তা বিবেচনায় আনা হয়।
৩(খ) নং প্রশ্নের উত্তর
শামীম এন্টারপ্রাইজ
খতিয়ান বই
পুঞ্জীভূত অবচয় হিসাব
তারিখবিবরণসূত্রডেবিট টাকাক্রেডিট টাকাডেবিট জেরক্রেডিট জের
২০১৫ খ্রি.
ডিসে-৩১
অবচয় হিসাব১,৭২,০০০১,৭২,০০০
২০১৬ খ্রি.
ডিসে-৩১
অবচয় হিসাব১,০৩,২০০২,৭৫,২০০
অবচয় খরচ নির্ণয়:
২০১৫ সাল: ৪,৩০,০০০ × ৪০% = ১,৭২,০০০ টাকা
২০১৬ সাল: (৪,৩০,০০০ − ১,৭২,০০০) × ৪০% = ২,৫৮,০০০ × ৪০% = ১,০৩,২০০ টাকা
৩(গ) নং প্রশ্নের উত্তর
মেশিন হিসাব
তারিখবিবরণসূত্রডেবিট টাকাক্রেডিট টাকাডেবিট জেরক্রেডিট জের
২০১৫ খ্রি.
জানু-০১
নগদান হিসাব৪,৩০,০০০৪,৩০,০০০
অবচয় হিসাব
তারিখবিবরণসূত্রডেবিট টাকাক্রেডিট টাকাডেবিট জেরক্রেডিট জের
২০১৫ খ্রি.
ডিসে-৩১
পুঞ্জীভূত অবচয় হিসাব-মেশিন১,৭২,০০০১,৭২,০০০
ডিসে-৩১আয় বিবরণী১,৭২,০০০
২০১৬ খ্রি.
ডিসে-৩১
পুঞ্জীভূত অবচয় হিসাব-মেশিন১,০৩,২০০১,০৩,২০০
ডিসে-৩১আয় বিবরণী১,০৩,২০০
✎ উৎস নথি: স্যারের শিটে ৩(খ) ও ৩(গ)-এর উত্তরের শিরোনামে “তামিম এন্টারপ্রাইজ” ছাপা হয়েছে; উদ্দীপক অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের নাম শামীম এন্টারপ্রাইজ, তাই এখানে সেটিই লেখা হলো।
নিজেকে যাচাই করো

তুরাগ এন্টারপ্রাইজ ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে ৫,০০,০০০ টাকায় একটি মেশিন ক্রয় করে; বহন খরচ ১৫,০০০ টাকা এবং সংস্থাপন ব্যয় ৩৫,০০০ টাকা। মেশিনটির আনুমানিক আয়ুষ্কাল ৪ বছর। প্রতিষ্ঠানটি দ্বিগুণ ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে অবচয় ধার্য করে।

  • ক)অবচয়ের হার ও প্রথম বছরের অবচয়ের পরিমাণ নির্ণয় করো।
  • খ)প্রথম দুই বছরের জন্য পুঞ্জীভূত অবচয় হিসাব প্রস্তুত করো।
  • গ)২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখে মেশিনের পুস্তকমূল্য নির্ণয় করো।
উত্তর সংকেত দেখো
ক) অবচয়ের হার = (১ ÷ ৪) × ১০০ × ২ = ৫০%। মোট অর্জন ব্যয় = ৫,০০,০০০ + ১৫,০০০ + ৩৫,০০০ = ৫,৫০,০০০ টাকা। ২০২০ সালের অবচয় = ৫,৫০,০০০ × ৫০% = ২,৭৫,০০০ টাকা

খ) ২০২১ সালের অবচয় = (৫,৫০,০০০ − ২,৭৫,০০০) × ৫০% = ১,৩৭,৫০০ টাকা। পুঞ্জীভূত অবচয় হিসাবের ক্রেডিট জের — ২০২০ শেষে ২,৭৫,০০০ টাকা, ২০২১ শেষে ৪,১২,৫০০ টাকা

গ) ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে পুস্তকমূল্য = ৫,৫০,০০০ − ৪,১২,৫০০ = ১,৩৭,৫০০ টাকা
নমুনা প্রশ্ন ০৪ · কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড ২০১৯
বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১৫ সালের ১ জুলাই তারিখে ১০,০০,০০০ টাকা মূল্যের একটি যন্ত্রপাতি আমদানি করে। এটির আমদানি শুল্ক, বহন খরচ ও সংস্থাপন ব্যয় বাবদ যথাক্রমে ১,৪০,০০০ টাকা, ৬০,০০০ টাকা ও ১,০০,০০০ টাকা ব্যয় করে। যন্ত্রটির আনুমানিক আয়ুষ্কাল ১০ বছর এবং ভগ্নাবশেষ মূল্য ১,০০,০০০ টাকা। প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বর তারিখে হিসাবকাল শেষ হয়। কোম্পানি ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে বার্ষিক ২০% হারে অবচয় ধার্যের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
  • ক)যন্ত্রটির অবচয়যোগ্য মূল্য নির্ণয় করো।
  • খ)২০১৫ ও ২০১৬ সালের জন্য প্রয়োজনীয় জাবেদা দাখিলা দাও।
  • গ)২০১৭ এবং ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখের আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে যন্ত্রপাতি হিসাব প্রদর্শন করো।
নমুনা উত্তর দেখো
৪(ক) নং প্রশ্নের উত্তর
যন্ত্রটির অবচয়যোগ্য মূল্য নির্ণয়
বিবরণটাকাটাকা
যন্ত্রপাতির ক্রয়মূল্য১০,০০,০০০
যোগ: আনুষঙ্গিক ব্যয়
আমদানি শুল্ক১,৪০,০০০
বহন খরচ৬০,০০০
সংস্থাপন ব্যয়১,০০,০০০৩,০০,০০০
যন্ত্রপাতির মোট মূল্য১৩,০০,০০০
বাদ: ভগ্নাবশেষ মূল্য১,০০,০০০
অবচয়যোগ্য মূল্য১২,০০,০০০
✎ উৎস নথি: উদ্দীপকে ভগ্নাবশেষ মূল্য “১,০০,০০” আকারে ছাপা হয়েছে; নমুনা উত্তরের গণনায় তা ১,০০,০০০ টাকা ধরা হয়েছে।
৪(খ) নং প্রশ্নের উত্তর
বাংলাদেশ লিমিটেড
সাধারণ জাবেদা
তারিখহিসাব শিরোনাম ও ব্যাখ্যাসূত্রডেবিট টাকাক্রেডিট টাকা
২০১৫ খ্রি.
জুলা-০১
যন্ত্রপাতি হিসাব ডে.
ব্যাংক হিসাব ক্রে.
(যন্ত্রপাতির মূল্য, আমদানি শুল্ক, বহন খরচ ও সংস্থাপন ব্যয় হিসাবভুক্ত করা হলো)
১৩,০০,০০০

১৩,০০,০০০
ডিসে-৩১অবচয় খরচ হিসাব ডে.
পুঞ্জীভূত অবচয়-যন্ত্রপাতি ক্রে.
(যন্ত্রপাতির অবচয় হিসাবভুক্ত করা হলো)
১,৩০,০০০

১,৩০,০০০
ডিসে-৩১আয় বিবরণী ডে.
অবচয় খরচ হিসাব ক্রে.
(অবচয় খরচ হিসাব বন্ধ করা হলো)
১,৩০,০০০

১,৩০,০০০
২০১৬ খ্রি.
ডিসে-৩১
অবচয় খরচ হিসাব ডে.
পুঞ্জীভূত অবচয়-যন্ত্রপাতি ক্রে.
(যন্ত্রপাতির অবচয় হিসাবভুক্ত করা হলো)
২,৩৪,০০০

২,৩৪,০০০
ডিসে-৩১আয় বিবরণী ডে.
অবচয় খরচ হিসাব ক্রে.
(অবচয় খরচ হিসাব বন্ধ করা হলো)
২,৩৪,০০০

২,৩৪,০০০
মোট =২০,২৮,০০০২০,২৮,০০০
অবচয় গণনা সারণী
সালক্রয়মূল্য / প্রা. পুস্তকমূল্যহারগণনাঅবচয়পুঞ্জীভূত অবচয়সমাপনী পুস্তকমূল্য
২০১৫১৩,০০,০০০২০%১৩,০০,০০০ × ২০% × ৬/১২১,৩০,০০০১,৩০,০০০১১,৭০,০০০
২০১৬১১,৭০,০০০২০%১১,৭০,০০০ × ২০%২,৩৪,০০০৩,৬৪,০০০৯,৩৬,০০০
২০১৭৯,৩৬,০০০২০%৯,৩৬,০০০ × ২০%১,৮৭,২০০৫,৫১,২০০৭,৪৮,৮০০
২০১৮৭,৪৮,৮০০২০%৭,৪৮,৮০০ × ২০%১,৪৯,৭৬০৭,০০,৯৬০৫,৯৯,০৪০
৪(গ) নং প্রশ্নের উত্তর
বাংলাদেশ লিমিটেড
আর্থিক অবস্থার বিবরণী (আংশিক)
৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে প্রস্তুতকৃত
বিবরণটাকাটাকা
স্থায়ী সম্পদ:
যন্ত্রপাতি১৩,০০,০০০
বাদ: পুঞ্জীভূত অবচয়৫,৫১,২০০
৭,৪৮,৮০০
বাংলাদেশ লিমিটেড
আর্থিক অবস্থার বিবরণী (আংশিক)
৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে প্রস্তুতকৃত
বিবরণটাকাটাকা
স্থায়ী সম্পদ:
যন্ত্রপাতি১৩,০০,০০০
বাদ: পুঞ্জীভূত অবচয়৭,০০,৯৬০
৫,৯৯,০৪০
নিজেকে যাচাই করো

সোনালী লিমিটেড ২০১৯ সালের ১ জুলাই তারিখে ৮,০০,০০০ টাকা মূল্যের একটি যন্ত্রপাতি আমদানি করে। আমদানি শুল্ক ৯০,০০০ টাকা, বহন খরচ ৪০,০০০ টাকা এবং সংস্থাপন ব্যয় ৭০,০০০ টাকা। যন্ত্রটির আয়ুষ্কাল ১০ বছর এবং ভগ্নাবশেষ মূল্য ৮০,০০০ টাকা। কোম্পানি ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতিতে বার্ষিক ২০% হারে অবচয় ধার্য করে। হিসাবকাল ৩১ ডিসেম্বর।

  • ক)যন্ত্রটির অবচয়যোগ্য মূল্য নির্ণয় করো।
  • খ)২০১৯ ও ২০২০ সালের জন্য প্রয়োজনীয় জাবেদা দাখিলা দাও।
  • গ)৩১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখের আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে (আংশিক) যন্ত্রপাতি প্রদর্শন করো।
উত্তর সংকেত দেখো
ক) মোট অর্জন ব্যয় = ৮,০০,০০০ + ৯০,০০০ + ৪০,০০০ + ৭০,০০০ = ১০,০০,০০০ টাকা। অবচয়যোগ্য মূল্য = ১০,০০,০০০ − ৮০,০০০ = ৯,২০,০০০ টাকা

খ) ২০১৯ (৬ মাস): ১০,০০,০০০ × ২০% × ৬/১২ = ১,০০,০০০ টাকা। ২০২০: (১০,০০,০০০ − ১,০০,০০০) × ২০% = ১,৮০,০০০ টাকা। প্রতি বছর দুটি করে দাখিলা — অবচয় খরচ ডে./পুঞ্জীভূত অবচয় ক্রে. এবং আয় বিবরণী ডে./অবচয় খরচ ক্রে.।

গ) ২০২১ সালের অবচয় = (৯,০০,০০০ − ১,৮০,০০০) × ২০% = ৭,২০,০০০ × ২০% = ১,৪৪,০০০ টাকা। পুঞ্জীভূত অবচয় = ১,০০,০০০ + ১,৮০,০০০ + ১,৪৪,০০০ = ৪,২৪,০০০ টাকা। আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে যন্ত্রপাতি ১০,০০,০০০ বাদ পুঞ্জীভূত অবচয় ৪,২৪,০০০ = ৫,৭৬,০০০ টাকা
নমুনা প্রশ্ন ০৫ · সিলেট শিক্ষাবোর্ড ২০১৯
এপেক্স কোম্পানি ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল এবং ২০১৮ সালের ১ জুন তারিখে ৩টি মেশিন যথাক্রমে ১,০০,০০০ টাকা, ১,৫০,০০০ টাকা এবং ৫০,০০০ টাকায় ক্রয় করে। প্রত্যেক মেশিনের আয়ুষ্কাল ১০ বছর এবং ভগ্নাবশেষ মূল্য যথাক্রমে ২০,০০০ টাকা, ১০,০০০ টাকা এবং ৫,০০০ টাকা। ২০১৮ সালের ১ জুলাই তারিখে প্রথম মেশিনটি ৯০,০০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি সরলরৈখিক পদ্ধতিতে অবচয় ধার্য করে। প্রতিষ্ঠানটি হিসাবের বই প্রত্যেক বছর ৩১ ডিসেম্বর তারিখে বন্ধ করে।
  • ক)বিক্রিত মেশিনের মুনাফা বা ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করো।
  • খ)২০১৮ সালের জন্য প্রয়োজনীয় জাবেদা দাখিলা দাও।
  • গ)২০১৭ ও ২০১৮ সালের মেশিন হিসাব প্রস্তুত করো।
নমুনা উত্তর দেখো
⚠ উৎস নথির অসংগতি: স্যারের শিটের উদ্দীপকে বিক্রয়ের তারিখ “২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি” ছাপা হয়েছে, কিন্তু নমুনা উত্তরে বিক্রয় ধরা হয়েছে ১ জুলাই ২০১৮ (৬ মাসের অবচয় ৪,০০০ টাকা এবং বিক্রয়কালীন পুঞ্জীভূত অবচয় ১২,০০০ টাকা তারই প্রমাণ)। একইভাবে জাবেদায় ৩য় মেশিন ক্রয়ের তারিখ “জানু-০১” লেখা হলেও উদ্দীপক ও গণনা (৭ মাসের অবচয় ২,৬২৫ টাকা) অনুযায়ী তা ১ জুন ২০১৮। এখানে গণনার সাথে সংগতিপূর্ণ তারিখই ব্যবহার করা হয়েছে।
৫(ক) নং প্রশ্নের উত্তর
বিক্রিত মেশিনের লাভ/ক্ষতি নির্ণয়
বিবরণটাকাটাকা
মেশিন বিক্রয়৯০,০০০
বাদ: পুস্তকমূল্য
মেশিন ক্রয়১,০০,০০০
বাদ: পুঞ্জীভূত অবচয়১২,০০০৮৮,০০০
মেশিন বিক্রয়জনিত লাভ২,০০০
পুঞ্জীভূত অবচয় কীভাবে ১২,০০০ টাকা হলো:
১ম মেশিনের বার্ষিক অবচয় = (১,০০,০০০ − ২০,০০০) ÷ ১০ = ৮,০০০ টাকা
২০১৭ সালের পূর্ণ বছরের অবচয় = ৮,০০০ টাকা
২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৬ মাসের অবচয় = ৮,০০০ × ৬/১২ = ৪,০০০ টাকা
∴ বিক্রয়ের তারিখে পুঞ্জীভূত অবচয় = ৮,০০০ + ৪,০০০ = ১২,০০০ টাকা
বিশেষ নোট: বিক্রয়মূল্য পুস্তকমূল্যের চেয়ে বেশি হলে বিক্রয়জনিত লাভ, কম হলে বিক্রয়জনিত ক্ষতি এবং সমান হলে লাভ-ক্ষতি শূন্য হয়। স্থায়ী সম্পত্তি বিক্রয়জনিত লাভকে মূলধন জাতীয় আয় এবং ক্ষতিকে মূলধন জাতীয় ক্ষতি বলা হয়।
৫(খ) নং প্রশ্নের উত্তর
এপেক্স কোম্পানি
সাধারণ জাবেদা
তারিখহিসাব শিরোনাম ও ব্যাখ্যাসূত্রডেবিট টাকাক্রেডিট টাকা
২০১৮ খ্রি.
জুন-০১
মেশিন হিসাব ডে.
নগদান হিসাব ক্রে.
(নগদে মেশিন ক্রয় করা হলো)
৫০,০০০

৫০,০০০
জুলা-০১অবচয় খরচ হিসাব ডে.
পুঞ্জীভূত অবচয় হিসাব ক্রে.
(বিক্রিত মেশিনের ৬ মাসের অবচয় হিসাবভুক্ত করা হলো)
৪,০০০

৪,০০০
জুলা-০১নগদান হিসাব ডে.
পুঞ্জীভূত অবচয় হিসাব ডে.
মেশিন হিসাব ক্রে.
মেশিন বিক্রয়জনিত লাভ ক্রে.
(পুরাতন মেশিন বিক্রয় করা হলো)
৯০,০০০
১২,০০০



১,০০,০০০
২,০০০
ডিসে-৩১অবচয় খরচ হিসাব ডে.
পুঞ্জীভূত অবচয় হিসাব ক্রে.
(অবশিষ্ট মেশিনের অবচয় হিসাবভুক্ত করা হলো)
১৬,৬২৫

১৬,৬২৫
ডিসে-৩১আয় বিবরণী ডে.
অবচয় খরচ হিসাব ক্রে.
(অবচয় খরচ হিসাব বন্ধ করা হলো)
২০,৬২৫

২০,৬২৫
ডিসে-৩১মেশিন বিক্রয়জনিত লাভ ডে.
আয় বিবরণী ক্রে.
(মেশিন বিক্রয়জনিত লাভ বন্ধ করা হলো)
২,০০০

২,০০০
মোট =১,৯৫,২৫০১,৯৫,২৫০
৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখের অবচয় ১৬,৬২৫ টাকা কীভাবে এলো:
২য় মেশিন (পূর্ণ বছর): (১,৫০,০০০ − ১০,০০০) ÷ ১০ = ১৪,০০০ টাকা
৩য় মেশিন (১ জুন থেকে ৭ মাস): (৫০,০০০ − ৫,০০০) ÷ ১০ × ৭/১২ = ৪,৫০০ × ৭/১২ = ২,৬২৫ টাকা
∴ মোট = ১৪,০০০ + ২,৬২৫ = ১৬,৬২৫ টাকা। বছরের মোট অবচয় খরচ = ৪,০০০ + ১৬,৬২৫ = ২০,৬২৫ টাকা
৫(গ) নং প্রশ্নের উত্তর
এপেক্স কোম্পানি
খতিয়ান বই
মেশিন হিসাব
তারিখবিবরণসূত্রডেবিট টাকাক্রেডিট টাকাডেবিট জেরক্রেডিট জের
২০১৭ খ্রি.
জানু-০১
নগদান১,০০,০০০১,০০,০০০
এপ্রি-০১নগদান১,৫০,০০০২,৫০,০০০
২০১৮ খ্রি.
জুন-০১
নগদান৫০,০০০৩,০০,০০০
জুলা-০১নগদান৮৮,০০০২,১২,০০০
জুলা-০১পুঞ্জীভূত অবচয়১২,০০০২,০০,০০০
✎ পড়ার সময় খেয়াল রেখো: শিটের খতিয়ানে বিক্রয়ের দিন মেশিন হিসাবকে ৮৮,০০০ টাকা (পুস্তকমূল্য) ও ১২,০০০ টাকা (পুঞ্জীভূত অবচয়) — মোট ১,০০,০০০ টাকা ক্রেডিট করা হয়েছে, যা মেশিনটির ক্রয়মূল্যের সমান। তবে ৮৮,০০০ টাকার বিপরীত হিসাব হিসেবে “নগদান” লেখা হয়েছে, অথচ নগদ পাওয়া গেছে ৯০,০০০ টাকা। পরীক্ষায় লিখলে ঐ লাইনটি “সম্পদ বিক্রয় হিসাব” বা “মেশিন বিক্রয় হিসাব” লেখাই নিরাপদ। মেশিন হিসাবের সমাপনী জের ২,০০,০০০ টাকা (২য় মেশিন ১,৫০,০০০ + ৩য় মেশিন ৫০,০০০) — এটি সঠিক।
বিশেষ নোট: খতিয়ান হিসাব টি-ছক বা চলমান জের ছকে করা যায়। প্রশ্নপত্রে কোন ছকে হিসাব করতে হবে তা উল্লেখ না থাকলে চলমান জের ছকে করাই সুবিধাজনক — সময় কম লাগে।
নিজেকে যাচাই করো

নিউ স্টার কোম্পানি ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি এবং ১ জুলাই তারিখে যথাক্রমে ১,২০,০০০ টাকা ও ৮০,০০০ টাকায় দুটি মেশিন ক্রয় করে। প্রত্যেকটির আয়ুষ্কাল ১০ বছর এবং ভগ্নাবশেষ মূল্য যথাক্রমে ২০,০০০ টাকা ও ১০,০০০ টাকা। ২০২০ সালের ১ জুলাই তারিখে প্রথম মেশিনটি ৯৫,০০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি সরলরৈখিক পদ্ধতিতে অবচয় ধার্য করে এবং প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বর তারিখে হিসাবের বই বন্ধ করে।

  • ক)বিক্রিত মেশিনের মুনাফা বা ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করো।
  • খ)২০২০ সালের জন্য প্রয়োজনীয় জাবেদা দাখিলা দাও।
  • গ)২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মেশিন হিসাব প্রস্তুত করো।
উত্তর সংকেত দেখো
ক) ১ম মেশিনের বার্ষিক অবচয় = (১,২০,০০০ − ২০,০০০) ÷ ১০ = ১০,০০০ টাকা। ২০১৮ ও ২০১৯ পূর্ণ দুই বছর = ২০,০০০ টাকা; ২০২০ সালের ৬ মাস = ৫,০০০ টাকা। বিক্রয়ের তারিখে পুঞ্জীভূত অবচয় = ২৫,০০০ টাকা, পুস্তকমূল্য = ১,২০,০০০ − ২৫,০০০ = ৯৫,০০০ টাকা। বিক্রয়মূল্যও ৯৫,০০০ টাকা, তাই লাভ-ক্ষতি শূন্য

খ) ২০২০ সালের দাখিলা: (১) অবচয় খরচ ডে. ৫,০০০ / পুঞ্জীভূত অবচয় ক্রে. ৫,০০০ (বিক্রিত মেশিনের ৬ মাস); (২) নগদান ডে. ৯৫,০০০ ও পুঞ্জীভূত অবচয় ডে. ২৫,০০০ / মেশিন হিসাব ক্রে. ১,২০,০০০; (৩) অবচয় খরচ ডে. ৭,০০০ / পুঞ্জীভূত অবচয় ক্রে. ৭,০০০ (২য় মেশিন); (৪) আয় বিবরণী ডে. ১২,০০০ / অবচয় খরচ ক্রে. ১২,০০০।

গ) মেশিন হিসাবের জের — ২০১৮ শেষে ২,০০,০০০ টাকা, ২০১৯ শেষে ২,০০,০০০ টাকা এবং ২০২০ শেষে ৮০,০০০ টাকা

ইঙ্গিত: ২য় মেশিনের বার্ষিক অবচয় = (৮০,০০০ − ১০,০০০) ÷ ১০ = ৭,০০০ টাকা; ২০১৮ সালে ৬ মাসের জন্য ৩,৫০০ টাকা।
প্রিয় শিক্ষার্থী, “দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদের হিসাব” অধ্যায়ের সৃজনশীল প্রশ্ন আসলে অল্প কয়েকটি ধাপের খেলা — সম্পদের মোট অর্জন ব্যয় বের করা (ক্রয়মূল্যের সাথে বহন খরচ, সংস্থাপন ব্যয়, আমদানি শুল্ক যোগ), তারপর সঠিক পদ্ধতি বেছে নেওয়া (সরলরৈখিকে ভগ্নাবশেষ মূল্য বাদ যায়, ক্রমহ্রাসমান জেরে যায় না), এরপর সম্পদটি বছরের যত মাস ব্যবহৃত হয়েছে ঠিক তত মাসের অবচয় ধরা, আর শেষে জাবেদা ও খতিয়ান। বিক্রয় থাকলে বিক্রয়ের তারিখ পর্যন্ত অবচয় ধরে পুস্তকমূল্য বের করে তবেই লাভ-ক্ষতি নির্ণয় করতে হবে। এখানে স্যারের লেকচার শিটের ৫টি বোর্ড প্রশ্ন ও তার পূর্ণ নমুনা উত্তর দেওয়া হলো, আর প্রতিটির পরে ঠিক একই ধরনের একটি করে অতিরিক্ত অনুশীলন প্রশ্ন উত্তর-সংকেতসহ যুক্ত করা হয়েছে। আগে নিজে কলম ধরো, তারপর মিলিয়ে নাও — তাহলেই পরীক্ষার হলে হাত আটকাবে না।
📌 অধ্যায় ৮ · দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদের হিসাবরক্ষণ — কোন বছরের বোর্ড প্রশ্ন অনুশীলন করবে

তোমরা যারা এখন দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছ, তাদের এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৭ সালে। তাই বিগত ৩–৪ বছরের বোর্ড প্রশ্ন সমাধান করাই সবচেয়ে বেশি কাজে দেবে। এই অধ্যায়ের জন্য নিচের প্রশ্নপত্রগুলো ধারাবাহিকভাবে চর্চা করো —

  • ২০২৬ সাল: এ বছর সকল শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষা হয়েছে — অর্থাৎ একটিমাত্র প্রশ্নপত্র। তবে বন্যার কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছে। দুটি প্রশ্নপত্রই সমাধান করবে।
  • ২০২৫ সাল: সকল শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্ন।
  • ২০২৪ সাল: সকল শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্ন।
মনে রাখবে: ২০২৬ সালে নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ সিলেবাসে এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থীরা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়েছে।
একটি বিশেষ পরামর্শ: ২০২০ সাল থেকে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে প্রশ্ন হওয়ায় হিসাববিজ্ঞান ১ম পত্রের হিসাববিজ্ঞানের নীতিমালা, প্রাপ্য হিসাবসমূহের হিসাবরক্ষণএকতরফা দাখিলা পদ্ধতি — এই তিনটি অধ্যায় সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ছিল না। তাই ওই তিনটি অধ্যায়ের জন্য ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের বোর্ড প্রশ্নগুলো চর্চা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More Articles & Posts

🔍 খুঁজুন

🆕 সর্বশেষ পোস্ট

লোড হচ্ছে…

📘 ফেসবুকে যুক্ত থাকো

HSC Accounting — MZRকলেজের ফেসবুক পেজ

ℹ️ এই সাইট সম্পর্কে

এটি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নয় — বেপজা পাবলিক স্কুল ও কলেজের একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত উদ্যোগ। দাপ্তরিক তথ্যের জন্য অফিসিয়াল সাইট দেখুন। বিস্তারিত